মণিপুর থেকে আসছিল কোটি টাকার ‘উপকরণ’! ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ, পুলিশের হাতে পাকড়াও ২
News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
পলাশিপাড়া, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: কোটি টাকার হেরোইন তৈরির উপকরণ-সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ৷ ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার পলাশিপাড়া থানা এলাকায়। সুত্রের খবর, নদিয়ার পলাশিপাড়া থানা এলাকায় মনিপুর থেকে চলছিল নিষিদ্ধ মাদক হেরোইন তৈরির উপকরণ আনার কাজ।
এবার পুলিশের হাতে পাকড়াও হল দু’জন৷ এদের মধ্যে একজন মনিপুরের থৈবাল মিনাবাজারের হাফিজ আব্দুল হামিদ, অন্যজন পলাশিপাড়ার বাউড়ের ইয়ারুল শেখ। দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
১০ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে ধৃতদের কৃষ্ণনগর এনডিপিএস আদালতে পাঠায় পলাশিপাড়া থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে এক কেজিরও বেশি পরিমাণ হেরোইন তৈরির প্রধান উপকরণ ‘ক্রুড’ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই উপকরণের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
সুত্রের খবর, হেরোইন তৈরির মূল উপাদান ক্রুড, পোস্তের আঠা আমদানি করে চলে হেরোইন প্রস্তুত। এরপর পাচার করা হয়। যুবক থেকে বয়স্ক অনেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। কার্যত এই হেরোইন নতুন প্রজন্মকে এতটাই আকৃষ্ট করছে যে টাকার লোভে বেআইনি ব্যবসা করতে প্রশাসনের ভয়কে তারা তোয়াক্কা করছে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেরোইন তৈরির উপকরণের মধ্যে ‘ক্রুড’ আসত মণিপুর কিংবা নাগাল্যান্ড থেকে। সেই মনিপুরের এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পলাশিপাড়ার কোনও এক মাদক কারবারি। সেই মত এই মণিপুর থেকে ক্রুড নিয়ে এই রাজ্যে আসে হাফিজ আব্দুল হামিদ।
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে তাকে আনতেই বাইকে করে মুর্শিদাবাদ গিয়েছিল ইয়ারুল। এই খবর পুলিশের কাছে পৌঁছতেই পলাশিপাড়া থানার পুলিশ আধিকারিক পরিকল্পনা নেন। দুপুরে মুর্শিদাবাদ পেরিয়ে পলাশিপাড়া ঢুকতেই ঝুলতলা বটতলা এলাকায় আটক করা হয় বাইকে থাকা দুজনকেই। ব্যাগ থেকে পাওয়া যায় হেরোইন তৈরির উপকরণ। দুজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি বাইক ও উপকরণ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। এইসব উপকরণ কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কারা বরাত দিয়েছিল, কে কে এর পিছনে আছে সব কিছুর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।