TMC MLAs meeting: পরাজয়ের ধাক্কার পর সংগঠন গোছাতে সক্রিয় তৃণমূল। মঙ্গলবার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে মিটিং করেন মমতা। সেই বৈঠকের ছবিও প্রকাশ করেছে TMC। সূত্রের খবর, বৈঠক থেকেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, দেশে সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হচ্ছে। হকারদের উচ্ছেদ, 'বুলডোজার রাজনীতি’, এমনকি সংবিধানের মূল আদর্শকেও বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটে হারের পর এটিই তৃণমূলের প্রথম বড় সাংগঠনিক বৈঠক। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মঙ্গলবার তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারেন মমতা। ছিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বও। বৈঠকের পর প্রকাশ্যে আসে একাধিক ছবি। সেখানে মমতার উল্টোদিকে দেখা যায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের। সূত্রের খবর, বৈঠকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি, বিরোধী রাজনীতির রূপরেখা এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, 'খুব শীঘ্রই দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হবে। সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে। হকারদের দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার সংবিধানের ভাবনা এবং মূল্যবোধ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।'
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল এখন নতুন করে বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদকে সামনে রেখে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্তও সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী ২১ মে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করবে তৃণমূল। দলের অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ শুরু করেছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই গরিব হকার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের স্বার্থেই বেআইনি দখলমুক্ত করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, এর জেরে বহু গরিব পরিবার জীবিকা হারানোর মুখে পড়েছে।
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও এ দিন সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জেলায় তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তৃণমূলের তিনটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছে।
তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন দাবি করেছেন, 'বিজেপি কর্মীরা শুধু তৃণমূল কর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষকেও ভয় দেখাচ্ছে। বহু বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও আমাদের কর্মীরা ভয় পাচ্ছেন না।'
অন্য দিকে, তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, গণনার দিন বিকেল ২টোর পর থেকেই বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটে হারের পর সংগঠনের ভিত শক্ত রাখা এখন তৃণমূলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এহেন পরিস্থিতিতে কালীঘাটের এই বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে সরাসরি বৈঠক করে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন মমতা, এমনটাই মত পর্যবেক্ষকদের একাংশের।