ইমাম ও পুরোহিত ভাতা বন্ধে বিতর্ক, কটাক্ষ কংগ্রেসের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ইমাম এবং পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা প্রকল্প আগামী জুন মাস থেকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই বিরোধী শিবির থেকে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের সময় এক ধরনের অবস্থান নেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান বদলে ফেলা হচ্ছে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্মভিত্তিক ভাতা প্রকল্প বন্ধ করা হবে। অর্থাৎ এতদিন যে ইমাম এবং পুরুতরা মাসিক ভাতা পেতেন, সেই প্রকল্প আর চালু থাকবে না। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
কংগ্রেস বিধায়ক আরাধনা মিশ্র বলেন, ভোটের সময় রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই অবস্থান বদলে ফেলা হলে তা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রমাণ। যদিও তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী যদি গোটা রাজ্যের মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কথা বলেন, তা অবশ্যই ইতিবাচক বার্তা।
আরাধনা মিশ্র বলেন, ‘ইমাম এবং পুরোহিত— উভয়ের ভাতাই বন্ধ করা হয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার সময় বলেছিলেন, তিনি গোটা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নন। এই বক্তব্য অবশ্যই ভালো।’ অন্যদিকে, বিজেপি নেতা টি আর শ্রীনিবাস এই সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সংখ্যালঘু বিষয়ক খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অনেক কম টাকা খরচ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৫৫ কোটি টাকা। অথচ সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৫৭০০ কোটি টাকা। এতে প্রশ্ন উঠছে, আগের সরকার আসলে কী করতে চাইছিল।’ বিজেপি নেতার দাবি, নতুন সরকার ‘দেশ আগে’ নীতিতে বিশ্বাস করে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কলকাতার জমিয়তে উলেমার জেলা সম্পাদক মুহাম্মদ আশরফ আলি কাসমি বলেন, আগের সরকার ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক ভূমিকার কথা মাথায় রেখেই এই ভাতা চালু করেছিল। তবে নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে ইমাম বা পুরোহিতদের উপর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না বলেই তাঁর মত। তিনি বলেন, ‘মসজিদ এবং মন্দির থেকেই ইমাম ও পুরোহিতরা পারিশ্রমিক পান। তাই এই ভাতা বন্ধ হলেও তাঁদের জীবিকায় বড় প্রভাব পড়বে না।’
একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনও পক্ষপাত তৈরি না করতেই যদি সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে তা সমর্থনযোগ্য। সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কাজে গুরুত্ব দেওয়া।
তবে রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ বাড়ছে। একাংশের মতে, ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার বার্তা দিচ্ছে। আবার অন্য অংশের মতে, এর পিছনে রাজনৈতিক কৌশলও থাকতে পারে।