নিজের ওয়ার্ডেই শুভেন্দুর থেকে পিছিয়ে মমতা, কয়েকটি বুথে ৫০ ভোটও পাননি ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’
প্রতিদিন | ২০ মে ২০২৬
২০২১ সালে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল ‘মেজো বোন’ নন্দীগ্রাম। বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে হেরেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালে ‘বড় বোন’ ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার সেখানেও হারলেন তৃণমূল নেত্রী। ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। নিজের ওয়ার্ডেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন মমতা! শুধু তাই নয়, কয়েকটি বুথে ৫০টি ভোটও পাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২৬৭টি বুথ রয়েছে। তথ্য বলছে, একাধিক বুথে ৫০টিরও কম ভোট পেয়েছেন মমতা। ১৪৯ নম্বর বুথে ৪৪টি ভোট, ১৫৮ নম্বর বুথে ৪৬, ১৭৬ নম্বর বুথে ২৯টি ভোট পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ২৬৩ নম্বর বুথে ৩০টি, ২৪৯ নম্বর বুথে ২৮, ২৪২ নম্বর বুথে ৪০টি ভোট পেয়েছেন নেত্রী। ২২৭ নম্বর বুথে মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১ ও ২৪ নম্বর বুথেন মাত্র ৪৫টি ভোট পেয়েছেন তিনি।
কমিশনের সূত্র হিসেবে, ২৮টি বুথে ৫০-এর কম ভোট পেয়েছেন মমতা। মাত্র ৬০টি বুথে লিড পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। শুভেন্দু অধিকারী ২০৮টি বুথে এবার লিড পেয়েছেন। এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রে জিতে এসেছেন। নিজেকে ‘ঘরের মেয়ে’ বলে প্রচার করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে তাঁর এই হার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ২০২১ সালে ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা ৮৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে তিনি ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন।
তবে এবার ভোটের প্রচারের শুরু থেকেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তিনিই ওই কেন্দ্রে জিতবেন। ভবানীপুরে হারবেন মমতা। রাজ্যের ক্ষমতা থেকেও বিদায় নেবে তৃণমূল। জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভবানীপুরের মানুষের ঋণ শোধ করবেন। সেই কথাও জানিয়েছেন।