রাজ্যের সমস্ত অবৈধ টোলপ্লাজ়া এবং টোলগেট বন্ধের নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। তার জেরে বীরভূমের দুবরাজপুরে নদী পারাপারের একটি অস্থায়ী রাস্তা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল টোলের বরাত পাওয়া সংস্থার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতৃত্বের। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
দুবরাজপুরের লোবো গ্রামে অজয় ও হিংলো নদীর সংযোগস্থলে কোনও সেতু নেই। নদীর বুকের উপর দিয়ে যাতায়াতের জন্য মোরাম দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। এটাই জুড়েছিল পশ্চিম বর্ধমান বর্ধমান ও বীরভূমকে। এখানে টোল আদায় করত একটি সংস্থা। দুবরাজপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে টোল বন্ধের নির্দেশ আসতেই বিপত্তি বাঁধে। টোলের বরাত পাওয়া সংস্থাটি ক্ষোভে ফেরিঘাটের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ। পাশে একটি বাঁশের অস্থায়ী ব্রিজ ছিল। সেটি থেকেও বাঁশ খুলে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
রাস্তা ভেঙে দেওয়ায় বর্তমানে যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ অবরূদ্ধ। বীরভূমের একটা বড় অংশের মানুষ প্রতিদিন কাজের সূত্রে এই রাস্তা দিয়েই পশ্চিম বর্ধমানে যান। আবার পশ্চিম বর্ধমান থেকে প্রতিদিন শয়ে শয়ে পুণ্যার্থী এই পথ দিয়েই বিখ্যাত লোবা কালী মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। এখন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে তাঁদের। রাস্তা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ ছড়িয়ে পড়তেই দুবরাজপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহার নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় একটি প্রতিনিধি দল।
পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে বরাজপুর ব্লক বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের ইনচার্জ করুণাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আগের তৃণমূল সরকার ব্রিজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু টেন্ডার ডেকে শুধু মাটির রাস্তা করেছে। এখন দুর্নীতি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে রাস্তাটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’ গোটা ঘটনায় তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। যদিও তৃণমূলের লোবা অঞ্চল সভাপতি পিনাকী চক্রবর্তী বলেন, ‘পুরো ভিত্তিহীন অভিযোগ। কেউ হয়তো এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তার দোষ আমাদের উপরে চাপানো হচ্ছে।’ এই নিয়ে দুবরাজপুরের ব্লক আধিকারিক জয়সূর্য চক্রবর্তীকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।