দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ক্যানিং: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলায় ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। পরিবারের অভিযোগ, দাদনের টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়। মৃতের নাম দুধকুমার সর্দার (৩৫)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানা এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবারের সুত্রে জানা গিয়েছে সোমবার সকালে একটি ইটভাটার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে, পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুধকুমার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কিছুদিন আগে ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা দাদন বা অগ্রিম নিয়েছিলেন দুধকুমার। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এরপর থেকেই তাঁর উপর চাপ বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। মৃতের পরিবারের বক্তব্য, টাকা শোধ করতে না পারার কারণে দুধকুমারের উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল। তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হত বলেও দাবি পরিবারের সদস্যদের।
অভিযোগ, রবিবার রাতেও ওই বিষয় নিয়ে ইটভাটা মালিকের লোকজনের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার সকালে ইটভাটার একটি ঘরের ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। খবর পেয়ে জীবনতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পাশাপাশি থানায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং সুপরিকল্পিত খুন। তাঁদের দাবি, দুধকুমারকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানো যায়।
মৃতের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন। জীবনতলা থানায় গিয়ে তাঁরা পুলিশের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। অপরদিকে, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক রয়েছে। এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। একদিকে পরিবারের খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের তদন্ত সব মিলিয়ে দুধকুমার সরদারের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। এটি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর এখন লুকিয়ে রয়েছে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে।