• রবীন্দ্রনাথের গানে উপনিষদের প্রভাব নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ডাঃ আনন্দ গুপ্তের, থাকছেন লন্ডন ও কলকাতার শিল্পীরা
    News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
  • কলকাতা: রবীন্দ্রনাথের গান এক অনন্য দর্শন বোধের গান, যার সূত্র অনেক গভীরে নিহিত। উপনিষদের প্রভাব গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের জীবনে, তাঁর গানে। যে গানের মূল বোধ একেশ্বরবাদ, আকারহীন ঈশ্বরের সাধনা, সেই একের সাধনা যিনি জলে, স্থলে শূন্যে সমান ভাবে থাকেন, যাঁর আরতি করে চাঁদ, সূর্য। রবীন্দ্রনাথের উপর উপনিষদ, ব্রাহ্মসমাজের প্রাণ পুরুষ রাজা রামমোহন রায়ের প্রভাব, ব্রহ্মসঙ্গীত রচনার মাধ্যমে যা বারে, বারে ফিরে এসেছে তাঁর ঈশ্বর চেতনার বিশ্বাসের কথায়। গীতাঞ্জলির কবিতা, ব্রহ্মসঙ্গীত সেই একেশ্বরবাদ, নিরাকার ঈশ্বরের কথাই বলে। নিজের প্রতি সম্মান বোধের কথা বলে।

    টেগোর অ্যান্ড জার্নি উইথ দ্যা উপনিষদ, নিবেদন করছেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ডাঃ আনন্দ গুপ্ত ও তাঁর সংস্থা দক্ষিণায়ন ইউকে। আগামী ২৬ মে, ২০২৬ , ভারতীয় জাদুঘরের সেন্ট্রাল কোর্টিয়ার্ডে। রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্যায়ের গানে এমন বহু গান যা ব্রাহ্মসমাজে উপাসনালয় গাওয়া হত, এদিনের অনুষ্ঠানে এমনই বেশ কিছু গান শোনা যাবে। উল্লেখ্য ২২ মে রাজা রামমোহন রায় এর জন্মবার্ষিকী।

    ডাঃ আনন্দ গুপ্ত দীর্ঘ দিন বিদেশের মাটিতে বসেই রবীন্দ্র চর্চা করে চলেছেন। তৈরি করেছেন দক্ষিণায়ণ ইউকের মতো রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র, যা কলকাতার বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান দক্ষিণী এর ইউকের মাটিতে এক শাখা বলা চলে, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০২ এ। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের গান অনুশীলন করেন শৈলজারঞ্জন মজুমদার, মায়া সেন, পরে সুদেব গুহঠাকুরতা, রণো গুহঠাকুরতার কাছে। দক্ষিণীতে প্রথম স্থানাধিকারী ডাঃ আনন্দ গুপ্ত পান সুনীল কুমার রায় স্মৃতি পুরস্কার।

    তখন থেকেই রবীন্দ্র সৃষ্টির নানা আঙ্গিক নিয়ে নীরিক্ষণ মূলক নানা প্রযোজনা পরিবেশিত হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। ডাঃ আনন্দ গুপ্ত বললেন, ”রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যের মনস্তাত্ত্বিক, আধ্যাত্মিক, কাব্যিক এবং সুরের নানা ধারার চর্চার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের শ্রোতা এবং শিল্পীদের কাছে রবীন্দ্র চর্চাকে আরো ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তাই আমাদের প্রযোজনাগুলোর বিষয় নির্বাচন একটু আলাদা ধরনের হয়ে থাকে।”
  • Link to this news (News18 বাংলা)