দেশজুড়ে ধর্মঘটে বন্ধ প্রায় 8 লক্ষ ফার্মেসি, খোলা থাকবে কোন ওষুধের দোকানগুলি
eTV Bharat | ২০ মে ২০২৬
নয়াদিল্লি, 19 মে: দেশজুড়ে ধর্মঘটে যাচ্ছে হাজার হাজার ওষুধের দোকান ৷ অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস 20 মে দেশব্যাপী ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছে। AIOCD সারা দেশে প্রায় 12.4 লক্ষ কেমিস্ট, ফার্মাসিস্ট এবং ওষুধ পরিবেশকদের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে বুধবার, 20 মে নির্ধারিত দেশব্যাপী ওষুধের দোকান ধর্মঘট প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জনসাধারণকে ওষুধের কোনও ঘাটতির সম্মুখীন হতে হবে না। বেশ কয়েকটি রাজ্যের খুচরো ফার্মেসি সংস্থাগুলি এই ধর্মঘট থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে এবং ওষুধের দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস জানিয়েছে যে, ই-ফার্মেসি এবং তাৎক্ষণিক ওষুধ সরবরাহ প্ল্যাটফর্মগুলির নিয়ন্ত্রক বিধিতে থাকা ত্রুটিগুলির প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। AIOCD-এর দাবি, এই ত্রুটিগুলির কারণেই অনলাইন ফার্মেসি সংস্থাগুলি যথাযথ তদারকি ছাড়াই তাদের কাজ চালাতে পারছে। দিল্লিতে প্রায় 15 হাজার এবং সারাদেশে প্রায় 7 থেকে 8 লক্ষ ওষুধের দোকান রয়েছে, যেগুলি এই ধর্মঘটের কারণে বন্ধ থাকতে পারে।
অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD)-এর ক্ষোভ মূলত দুটি বিজ্ঞপ্তি— জিএসআর 220(ই) এবং জিএসআর 817(ই)-কে কেন্দ্র করে। তাদের যুক্তি হল, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত অবিলম্বে উভয় বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা। কারণ, এই বিধানগুলি অনলাইন ফার্মেসি কোম্পানিগুলিকে এক ধরনের "আইনি ধূসর অঞ্চলে" (আইনি ফাঁক গলে কাজ করা) কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে ৷ এর অর্থ, প্রেসক্রিপশন কীভাবে যাচাই করা হবে, কোন নিয়মের আওতায় ওষুধ বিতরণ করা হবে এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জবাবদিহি কীভাবে করা হবে, তা সংজ্ঞায়িত করে এমন কোনও স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ আইন নেই।
এআইওসিডি-র সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল উল্লেখ করেছেন যে, ই-ফার্মেসি এবং ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি অ্যাপগুলিও ভুল বা জাল প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধ সরবরাহ করছে। অনলাইন ফার্মেসিগুলিকেও প্রচলিত ওষুধের দোকানগুলির মতোই একই কঠোর বিধি-নিষেধের অধীনে পরিচালনা করা উচিত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বেশ কয়েকটি রাজ্য-স্তরের কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতি ইতিমধ্যেই এই ধর্মঘট থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তবে, এআইওসিডি দাবি করেছে যে ধর্মঘটটি দেশজুরে পরিচালিত হবে। বহু সংখ্যক ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় ওষুধের প্রাপ্যতা সাময়িকভাবে এবং কিছু এলাকায় প্রভাবিত হতে পারে। তবে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে আগামিকাল (20 মে) প্রস্তাবিত ধর্মঘট সত্ত্বেও সমস্ত প্রধান ফার্মেসি চেইন, হাসপাতালের ফার্মেসি স্টোর, প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি পরিযোজনা (পিএমবিজেপি)-র অধীনে পরিচালিত জন ঔষধি কেন্দ্র এবং অমৃত ফার্মেসির দোকান খোলা থাকবে।