• বাতাসের উপরের স্তরে গবেষণায় নয়া নজির, উদ্যোগী ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

    বায়ুমণ্ডলের উপর দিকের স্তরে গবেষণা চালানোর ক্ষেত্রে একরকম উলট পুরাণ ঘটাল কলকাতা। আরও ঠিক করে বললে, এখানকার মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণাকেন্দ্র ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স (আইসিএসপি)। মহাকাশ ও বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর সংক্রান্ত গবেষণার কথা উঠলে সাধারণত মনে আসে বেঙ্গালুরু বা তিরুবনন্তপুরমের কথা। কিন্তু দেশের প্রতিরক্ষার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি যন্ত্রকে বেলুনের মাধ্যমে বাতাসের উপর দিকের স্তরে উৎক্ষেপণের জন্য বেঙ্গালুরুর সংস্থা 'কনস্টেলেশন এরোস্পেস' দ্বারস্থ হয়েছিল আইসিএসপি–র। মঙ্গলবার আইসিএসপি–র চন্দ্রপুর কেন্দ্র থেকে হিলিয়াম ভরা বেলুনের সাহায্যে মাটি থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার উচ্চতায় তোলা হলো বিশেষ এক যন্ত্র।

    আইসিএসপি–র প্রতিষ্ঠাতা এবং মহাকাশবিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তী বিশেষ এই উৎক্ষেপণ প্রসঙ্গে 'এই সময়'–কে বলেন, '২০০৭ থেকে বাতাসের উপরের স্তরে বেলুন পাঠিয়ে আমরা নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ এবং সে সব তথ্য বিশ্লেষণ করছি। এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বেঙ্গালুরুর ওই সংস্থা এমনটা জানে বলেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।'

    আইসিএসপি জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিশেষ কোনও যন্ত্র উৎক্ষেপণ করা হবে, কাজ সেটাই। কিন্তু ওই যন্ত্রটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার উঁচুতে কতটা কার্যকর থাকে, সেটা পরীক্ষা করে দেখার দরকার ছিল। তার জন্যই প্রয়োজন ছিল মহড়ার। ফলে, বেলুনের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কাজের জন্য আট কেজি ওজনের একটি বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ভরে তাকে আকাশে তোলা হয়েছে। তার সঙ্গে 'পে লোড' হিসেবে তোলা হয়েছে পাঁচ কেজি ওজনের একটি যন্ত্র। তা ছাড়া ছিল একটি হাইডেফিনিশন ক্যামেরাও। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৯ মিনিটে চন্দ্রপুরের কেন্দ্র থেকে বেলুনটি ছাড়া হয়। দুপুর দেড়টা নাগাদ সেখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে, হেতমপুরের কাছে যন্ত্রটি প্যারাশ্যুটে করে ফের মাটিতে নেমে আসে।

    কলকাতার সংস্থার কর্মীদের দক্ষতায় সন্তুষ্ট বেঙ্গালুরুর সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। আগামী দিনে এ ধরনের আরও বেশ কিছু কাজ তাঁরা আইসিএসপি–র সঙ্গেই করবেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দু'টি সংস্থার মধ্যে শিগ্‌গিরি মউ স্বাক্ষরও হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

    প্রথাগত গবেষণার জন্য অনেক কম খরচে বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকের স্তরের বিভিন্ন ধর‍নের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বেলুনের ব্যবহার বহু পুরোনো। ইউরোপ এবং ইউএসএ–তে বেলুনের প্রয়োগ খুব বেশি হলেও ভারতে এ ধরনের কাজ প্রায় হয় না। সে দিক থেকে ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স অনেকটাই ব্যতিক্রম বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।

  • Link to this news (এই সময়)