এই সময়, কালনা: এ যেন তীরে এসে তরী ডোবার মতো! সোমবার প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে পূর্বস্থলীতে ঝরে পড়ে কাঁচা এবং পাকা আম। ফলে মাথায় হাত পূর্বস্থলীর আম চাষিদের।
ক্ষতি হওয়া ওই আমগুলি এক টাকা, দু’টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। এ দিন ধান, আলুর মতো সরকারের কাছে সহায়ক মূল্যে আম কেনারও দাবি তোলেন চাষিরা। এলাকায় ফল সংরক্ষণের জন্য হিমঘর এবং আমে বিমার দাবি তুলেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার কালনার মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে উন্নয়নমূলক পর্যালোচনার বৈঠকে পূর্বস্থলীর আমের বিষয় তুলে ধরেন নতুন বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।
পূর্বস্থলীর বিভিন্ন এলাকায় বিঘের পর বিঘে এলাকা জুড়ে রয়েছে বেশ কিছু আমবাগান। বাগান মালিকদের কাছে লিজ় নিয়ে আম চাষ করেন কিছু চাষি। আম চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুক্ত বহু মানুষ। এখানকার আম বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, অসম ছাড়াও যায় নেপালে। পূর্বস্থলীর হিমসাগর–সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম রাজ্যের বিভিন্ন আম যায় উৎসবে। এ বার এমনিতেই আমের কম দাম মিলছে চাষিদের। বর্তমানে গাছে রয়েছে পাকা ও প্রায় পাকা আম। কিন্তু সোমবারের ঝড়ে ঝরে পড়েছে সেই আমের অনেকটা অংশ।
প্রায় এক লক্ষ টাকার মতো ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম চাষি সুরজিৎ শীল। তিনি বলেন, ‘সোমবারের ঝড়ে গাছ ভেঙে প্রচুর আম ঝরে পড়েছে। বাধ্য হয়ে এক টাকা, দু’টাকা কেজিতে তা বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। অন্য ফসলের মতো আমেরও বিমা করা হোক।’ আর এক আম চাষি নিরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘অন্য বছর আমে ২০ টাকার উপরে দর পেতাম। এ বার মিলছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। জামাইষষ্ঠীর সময়ে আমের ভাল বাজার মেলে। এ বার জামাইষষ্ঠী বেশ কিছুটা দেরিতে পড়েছে। কিন্তু যে ভাবে আম ঝরে পড়েছে, তাতে জামাইষষ্ঠীর বাজার পাব না।’
পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক বলেন, ‘আমরা মালদা, মূর্শিদাবাদের আম বলি। কিন্তু পূর্বস্থলীতেও ভাল আম হয়। আম নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।’