এই সময়: এ বার 'রোড লিডস টু রোম'! পাঁচ দেশের সফরের চূড়ান্ত পর্যায়ে নরওয়ের অসলো থেকে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার রাতে ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দু'দিনের এই ইতালি-সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সে দেশের প্রবাসী ভারতীয়রাও মোদী-মোলাকাতের জন্য মুখিয়ে।
মোদী রোমে পা রাখার আগেই প্রকাশ্যে আসে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তাঁর যৌথ বিবৃতি। বলা হয়— 'ভারত ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। গত কয়েক বছরে আমাদের সম্পর্ক নিছক বন্ধুত্বের পরিসর অতিক্রম করে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আঙিনায় যখন দফায় দফায় পটপরিবর্তন চলছে, তখন ইতালি ও ভারতের অংশীদারিত্বের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে নিয়মিত মতবিনিময়। এর সঙ্গে জুড়েছে অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামাজিক সৃজনশীলতা ও হাজার বছরের সভ্যতাগত প্রজ্ঞা। আমাদের সহযোগিতা প্রতিফলিত করে এক অভিন্ন চেতনাকে।'
কোন দেশ কতটা উদ্ভাবনশীল, শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে রূপান্তরে কতটা সক্ষম এবং কৌশলগত সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কতটা দক্ষ, তার উপরেই নির্ভর করে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা। সে জন্যই ইতালি-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর এবং বহুমাত্রিক করে তুলতে সচেষ্ট বলে দাবি দু'দেশেরই। লক্ষ্য, নিজেদের সক্ষমতাকে পরস্পরের কল্যাণে ব্যবহার করা। যৌথ বিবৃতিতে বলা হলো, 'আমরা উৎপাদন ক্ষেত্রে ইতালির দক্ষতা, শিল্প ক্ষেত্রে অমিত শক্তিধর অবস্থান এবং ভারতের দ্রুত আর্থিক বিকাশ, সমৃদ্ধ উদ্ভাবনকে এক ছাতার নীচে এনে একটা শক্তিশালী সমন্বয় মঞ্চ গড়ে তুলতে চাই। '
দিল্লি-রোমের দাবি, ২০২৯-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক, ওষুধপত্র, বস্ত্র, কৃষি-খাদ্য, পর্যটন এবং আরও অনেক কিছু প্রায়োরিটিতে রাখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে লেখা— 'আমাদের অংশীদারিত্বের কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন।'