প্রথমে হোটেলে নিয়ে গিয়ে মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ। সেই ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে ফের ধর্ষণ। এখানেই শেষ নয়। এরপর তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে লাগাতার অপমান। বারংবার হুমকি। মধ্যপ্রদেশে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুর পরে তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা খুঁজে পেল পুলিশ। দাবি, এই পরিস্থিতি আর সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন নির্যাতিতা। অভিযুক্ত তরুণীরই এক বান্ধবীর দাদা বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোয়ালিয়রে পিএইচডি করছিলেন ২৫ বছরের ওই তরুণী। এই সময়ই তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় যোগেশ রাওয়াত নামের এক যুবকের। সে ছিল তাঁর এক বান্ধবীর দাদা। ক্রমে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গাঢ় হয়। পুলিশের দাবি, এরপরই তাঁকে এক হোটেলে ডাকে অভিযুক্ত যোগেশ। এরপর পানীয়তে মাদক মিশিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে অচেতন হয়ে পড়েন ওই তরুণী। সেই সময় তাঁকে ধর্ষণ করে সে। তুলে রাখে তাঁর নগ্ন ছবি ও ভিডিও-ও। পুলিশের আরও দাবি, আচমকাই জ্ঞান ফিরে এলে ওই অবস্থাতেই তাঁর মুখ চেপে ধরে যোগেশ বলে ওঠে, ”ভয় নেই। তোমাকে বিয়ে করে নেব।”
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এই ঘটনার দিনদুয়েকের মধ্যেই তাঁকে ফের হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে যোগেশ। হুমকি দেয়, বাধা দিলে ফাঁস করে নগ্ন ছবি ও ভিডিও। গত ১৩ মার্চ ও ১৫ মার্চ পরপর ধর্ষিতা হন ওই তরুণী, দাবি এমনই। মাসখানেক পরে ওই তরুণীর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। পরীক্ষা করতে ধরা পড়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। বাধ্যত তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। এরপরও ওই যুবকের কোনও হেলদোল ছিল না বলেই দাবি। এমনকী, তার দুই বোন, যাঁদের একজন ওই তরুণীরই বান্ধবী তাঁরা বাড়িতে এসে অপমান করে যান নির্যাতিতাকে। এমনকী খুনেরও হুমকি দেন।
দাবি, এরপরই গত ১৪ মে থানায় ডায়রিও করেন নির্যাতিতা। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিজের ভাইয়ের ঘর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। মনে করা হচ্ছে, লাগাতার অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যাই করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তদন্তকারীরা।