• অলিম্পিকে সোনা জিতলেই ৮ কোটি, বাংলার ক্রীড়াবিদদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা ক্রীড়ামন্ত্রীর
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক, কমনওয়েলথের গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলা থেকে অ্যাথলিটের সংখ্যা তলানিতে। পদক জয় তো দূরের কথা। এ বার সেই ছবিটা বদলাতে উদ্যোগী হলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রমাণিক। মঙ্গলবার ১৯ মে সাংবাদিক বৈঠকে ক্রীড়াবিদদের জন্য বিপুল আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করলেন। শুধু তাই নয়, দিলেন সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতিও।

    মন্ত্রী জানান, এতদিন রাজ্যের তরফে এই ধরনের নির্দিষ্ট আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা ছিল না। এবার থেকে ন্যাশনাল গেমসে সোনা জয়ীদের ৭ লক্ষ, রুপো জয়ীদের ৬ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জয়ীদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসুক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার নাম উজ্জ্বল করুক।’

    অলিম্পিক, প্যারিলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিকস্তরে পদক জিতলে আর্থিক পুরস্কারের অঙ্ক বিপুল বাড়ানোর ঘোষণা করলেন তিনি। এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হতো ২৫ লক্ষ টাকা। সেটা একধাপে বেড়ে হলো ৮ কোটি। মন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার অলিম্পিকের সোনার পদক জয়ীদের মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা দিত। কেউ অলিম্পিকে পদক জিতলে এবার থেকে আমরা ৮ কোটি টাকা দেব। আগে রুপো জিতলে ১৫ লক্ষ দেওয়া হতো। আমরা ৬ কোটি দেব। ব্রোঞ্জ জয়ীদের ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হতো। আমরা ৪ কোটি টাকা দেব।’

    শুধু আর্থিক পুরস্কারই নয়, অলিম্পিক বা কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী DSP র‍্যাঙ্ক পর্যন্ত সরকারি চাকরির ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এর পাশাপাশি স্বীকৃত স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন ও ক্লাবগুলিকে নিয়ম মেনে অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    আর কোন কোন স্পোর্টসে পদকজয়ীদের জন্য পুরস্কার মূল্য ঘোষণা করলেন তিনি। দেখে নিন

    এশিয়ান গেমস

    সোনা জিতলে- ৫ কোটি টাকা (আগে ছিল সাড়ে ৭ লক্ষ)
    রুপো জিতলে- ৪ কোটি টাকা
    ব্রোঞ্জ জিতলে- ২ কোটি টাকা

    কমনওয়েলথ গেমস

    সোনা জিতলে- ১.৫ কোটি টাকা (আগে ৫ লক্ষ)
    রুপো পেলে- ৭৫ লক্ষ টাকা (আগে ৩ লক্ষ)
    ব্রোঞ্জ পেলে- ৫০ লক্ষ টাকা (আগে ২ লক্ষ)

    যে কোনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে

    সোনা- ২ কোটি
    রুপো- ১.৫ কোটি
    ব্রোঞ্জ- ১ কোটি

    পুরস্কার মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি তিনি জেলায় ক্রীড়া মহোৎসবের ঘোষণা করেন। জানান, খেলো ইন্ডিয়া এবং সাইয়ের পরামর্শ নিয়ে ক্রীড়া দপ্তর পদক্ষেপ করবে। এটির জন্য একটি অ্যাডভাইসরি কমিটি তৈরি করা হবে।

    বাংলার তিন ফুটবল দল ISL খেলে। আর তার মধ্যে মহামেডান এ বার স্পনসর সমস্যায় ঠিকমতো দল তৈরি করতে পারেনি, যার ফলে ISL থেকে অবনমন হয়েছে তাদের। মহামেডানকে বাদ দিলে ইস্টবেঙ্গল একাধিকবার স্পনসর সমস্যায় ভুগেছে। এটা নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি ফুটবল দলগুলো বড় স্পনসর পাবে। সমস্যা হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাহায্য করবে। সব খেলার পাশে দাঁড়াবে সরকার।’

    যুবভারতীতে কলকাতা ডার্বি দেখে বেরনোর পর তিনি স্টেডিয়ামের বাইরের মূর্তিটা নিয়ে সরব হন। অদ্ভুত দেখতে মূর্তি সরিয়ে ফেরার ঘোষণা করেছিলেন। এ দিনও একই কথা বললেন। জানান, পূর্ত দপ্তরকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। দ্রুত মূর্তি সরিয়ে ফেলা হবে। পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম সাজানো হবে। সেখানে অলিম্পিক পর্যায়ের ট্র্যাক বসানো হবে এবং ফুটবল চালু করা হবে।
  • Link to this news (এই সময়)