• নিজেকে খুব একটা প্রতিবাদী মানুষ বলে মনে করি না: ঋত্বিক চক্রবর্তী
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • অন্য সময় প্রাইম: এই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

    ঋত্বিক: পৃথা চক্রবর্তীর ‘ফেরা’ ছবিতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা দারুণ। প্রথম আকর্ষণ ছিল সঞ্জয় মিশ্রর সঙ্গে কাজ করা। এই ছবিতে আমাকে ওঁর ছেলের চরিত্রে দেখা যাবে। গল্পের নতুনত্ব নিয়ে আপাতত কিছু বলতে না চাইলেও একটা কথা বলব, এই ছবির শুটিংয়ের উপরি পাওনা ছিল সঞ্জয় মিশ্রকে কাছ থেকে অভিনয় করতে দেখা। আমি রীতিমতো ওঁর প্রত্যেকটা স্টেপ ফলো করেছি।

    অন্য সময় প্রাইম: বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে ঋত্বিক চক্রবর্তী প্রথম সারির অভিনেতা। এখনও ঠিক কী-কী শেখার বাকি আছে?

    ঋত্বিক: আমার তো ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় অভিনেতাদের দরজা-জানলা খোলা রাখাটা খুব প্রয়োজন। তাই আমি যদি দরজাটা খুলে না রাখি, যদি দেখতে না থাকি এবং মনে করি যে আমার দেখার সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে তবে তো ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ব।

    অন্য সময় প্রাইম: বাংলা ছবি কোথায় পিছিয়ে গেল বলে মনে হয়?

    ঋত্বিক: এটা বলা খুব মুশকিল। প্রথম কথা হচ্ছে, ভালো সিনেমা বানাতে হবে। যেটা মানুষ পছন্দ করবেন। একেবারে ভালো কিছু হচ্ছে না সেটা বলব না। কিন্তু ফাইনালি দর্শকদের ভালো না লাগলে তো আমরা ফেল করছি। তা ছাড়াও সিনেমা হল ক’টা আছে? অনেক টেকনিক্যাল ব্যাপারও থাকে। আমি বলব না শুধুমাত্র সিঙ্গল–স্ক্রিন কম তাই বাংলা ছবির ব্যবসা ভালো করছে না। আসলে এই ভাবনার কোনও কুল-কিনারা খুঁজে পাব না। আমার মনে হয় এই পুরো বিষয়টা নিয়ে সকলের একসঙ্গে ভাবার দরকার।

    অন্য সময় প্রাইম: ইন্ডাস্ট্রিতে মাঝে বেশ কিছু প্রতিবাদ হলেও আপনাকে সরাসরি যুক্ত হতে দেখা যায়নি কেন?

    ঋত্বিক: আমি নিজেকে খুব একটা প্রতিবাদী মানুষ বলে মনে করি না। আমার সমাজমাধ্যমে যে সব পোস্ট আমি করে থাকি সেগুলো আমার পর্যবেক্ষণ। একজন সাধারণ মানুষের পর্যবেক্ষণ এবং সেটা বলার রাইট আমার রয়েছে বলেই মনে হয়। সব যে বলে উঠতে পারি তাও নয়। আর যদি পরিচালক এবং গিল্ডের সমস্যার কথা নিয়ে প্রশ্নটা হয় তবে বলব আমার ব্যক্তিগত সমর্থন পরিচালকদের প্রতিই ছিল।

    অন্য সময় প্রাইম: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলে আপনি কি আশাবাদী?

    ঋত্বিক: আশা করা ছাড়া আমাদের তো কোনও উপায় নেই। কিন্তু আমরা তো খানিকটা ঘর পড়া গরুও। তাই আশা ও আশঙ্কা দুই নিয়ে আছি।

    অন্য সময় প্রাইম: কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার বা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব এসেছিল?

    ঋত্বিক: একেবারেই নয়। আমি বোধহয় এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে আমি আসলে কারও প্রার্থী নই। আমি নাগরিক।

    অন্য সময় প্রাইম: অনেক অভিনেতাই এখন বলছেন, চাপে পড়ে তাঁরা রাজনীতিতে সামিল হয়েছিলেন বা নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গ হয়েছিলেন।

    ঋত্বিক: মনে হয়, কেউ না চাইলে জোর করেও তেমন ভাবে কিছু করানো যায় না। যাঁরা প্রচার করেছেন কিংবা গোটা বিষয়টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদেরও কিছু পাওয়ার ছিল। হতে পারে হয়তো কিছুটা চাপ ছিল। তবে পুরোটা নয়। পারসেপশনটা ক্লিয়ার করতে পারলে সমস্যার জায়গা তৈরি হয় না। কারও রাজনীতি করা নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। কিন্তু রাজনীতিটা একটা ফুলটাইম জব। রাজনীতি করলে শুধুই রাজনীতি করুন, আর অভিনয় করলে অভিনয়।
  • Link to this news (এই সময়)