• মিলত না মজুরি, চলত অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন, পুলিশি অভিযানে ‘নরক’ থেকে উদ্ধার ৪০০ ‘বন্ডেড লেবার’
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • ঘুপচি ঘুপচি ঘর। নেই ইলেকট্রিক, পর্যাপ্ত খাবার। মেলে না ন্যূনতম মজুরি। কাজের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য মিলত ‘ভাউচার’। আর তার সঙ্গে চলত অকথ্য শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, যৌন নিগ্রহও।

    এমনই ‘নরককুণ্ড’ থেকে ১০০ জন শিশু-সহ ৪০০ বন্ডেড লেবারকে (বন্ধুয়া মজদুর) উদ্ধার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তেলঙ্গানার নাজিমাবাদ জেলার আরমুর এলাকার একাধিক ইটভাটায় হানা দিয়ে ওই শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই শ্রমিকরা তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং ওডিশার বাসিন্দা। অভিযোগ, ওই শ্রমিকদের বছরের পর বছর জোর করে কাজ করানো হতো বিভিন্ন ইটভাটায়।

    আরমুর পুলিশের ৩০ জনের একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার ওই অভিযান করে। পুলিশের ইনস্পেক্টর সত্যনারায়ণ জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ২০০ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইনস্পেক্টরের আরও দাবি, উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে বহু মহিলা এবং শিশুও রয়েছে। তাঁরা অনেকেই অপুষ্টির শিকার বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি, ওই শ্রমিকদের ‘বন্ডেড লেবার’ হিসেবে কাজ করানো হতো। তাঁদের ঠিকমতো মজুরিও দেওয়া হতো না। কেবল মাত্র নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কেনার জন্য ‘ভাউচার’ দেওয়া হতো। তামিলনাড়ুর এক শ্রমিক জানিয়েছেন, তিনি চার বছর ধরে কাজ করছেন। এই চার বছরে তিনি কোনও পারিশ্রমিক পাননি। বদলে প্রতি সপ্তাহে ২০০ টাকার একটি ‘ভাউচার’ পেতেন। এর পাশাপাশি, ওই শ্রমিকদের উপরে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। এমনকী যৌন নিগ্রহও করা হতো তাঁদের।

    পুলিশ আধিকারিক সত্যনারায়ণ জানিয়েছেন, এক শ্রমিকের আত্মীয়ের কাছ থেকে একটি ক্লু পেয়ে এই অভিযান শুরু করে পুলিশ। তিনি জানান, সূত্র মারফত তাঁরা জানতে পারেন যে, ওই ইটভাটাগুলিতে শ্রমিকদের উপরে অকথ্য অত্যাচার করা হয়। অবশেষে, পুলিশি অভিযানে ওই শ্রমিকদের একাংশকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। খাবার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ওই শ্রমিকদের বয়ান রেকর্ড করা হবে। পাশাপাশি, যারা এই বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়াও, ওই শ্রমিকদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)