প্রকাশ্যে পশুবলি নিয়ে ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশুবলি নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর ভাবে মেনে চলতে নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রতি বছরই এই নির্দেশ পুনরায় জারি হয়। এ বছর ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদের (আগামী ২৮ মে) আগে এই নির্দেশ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এই সংক্রান্ত মোট আটটি মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। ২১ মে, বৃহস্পতিবার সব মামলার শুনানি হওয়ার কথা হয়েছে।
বুধবার এই সব মামলা শুনানির জন্য উঠেছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্য এ দিন সময় চায় সব মামলায় তাদের বক্তব্য জানানোর জন্য। এ দিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রাজ্যকে নির্দেশ দেন, প্রত্যেক মামলায় রাজ্যের কী জবাব, তা আগামিকাল, বৃহস্পতিবারের মধ্যে আলাদা আলাদা ভাবে জানাতে হবে। বিধি মেনে সরকারি কসাই খানা চালানোর ব্যাপারে কী পরিকাঠামো রয়েছে তাও জানাতে হবে আদালতকে।
পুরোনো নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত শংসাপত্র বা ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ছাড়া কোনও গবাদি পশু বলি দেওয়া যাবে না। সেই তালিকায় রয়েছে গোরু, ষাঁড়, বলদ ও মোষ। কোনও পশুকে বলি দিতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর এবং সেই পশু প্রজননে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট পুরসভার মেয়র, চেয়ারপার্সন বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশু চিকিৎসকের যৌথ ভাবে সই থাকা শংসাপত্র থাকলেই তবে সেই পশুকে নির্দিষ্ট কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া যাবে।
তবে এই নির্দেশিকা নিয়ে জেলায় জেলায় নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। হাওড়া, হুগলি-সহ একাধিক জেলায় ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদের আগে পশুহাটে গোরু বিক্রি করা হয়। সেই সব জায়গায় গোরু বিক্রি ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।