বুলেট ট্রেনে ঝড়ের গতিতে জুড়বে শিলিগুড়ি-বারাণসী, শুরু হচ্ছে সমীক্ষার কাজ
eTV Bharat | ২০ মে ২০২৬
শিলিগুড়ি, 20 মে: যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা উত্তর পূর্ব ভারত । দেশের বুলেট ট্রেন মানচিত্রে এবার জুড়তে চলেছে শিলিগুড়ির নাম ।
বুলেট ট্রেনের কাজের সূচনা
রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী জুলাই মাস থেকেই শুরু হতে চলেছে প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন করিডরের প্রাথমিক কাজ । এই হাই-স্পিড রেল চালু হলে বিহারের পাটনা হয়ে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছনো যাবে মাত্র 2 ঘণ্টা 55 মিনিটে । তিন রাজ্য-পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশকে এক সুতোয় বাঁধবে এই উচ্চগতির ট্রেন।
ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) ইতিমধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের জন্য একটি বিশেষ সমীক্ষা দল গঠন করেছে । এবছরের জুলাই মাস থেকে আকাশপথ (এরিয়াল সার্ভে) এবং স্থলপথ-উভয় মাধ্যমেই যৌথ সমীক্ষার কাজ শুরু হবে । এই সমীক্ষার মাধ্যমেই করিডরের চূড়ান্ত রুট এবং প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি নির্ধারণ করা হবে ।
প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল, 'ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট' বা DPR প্রস্তুত করা । 2017 সালের মার্চের মধ্যে এই ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে রেলের তরফে । ডিপিআর প্রস্তুত এবং রেল বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পরই শুরু হবে মূল রেললাইন নির্মাণের কাজ ।
বুলেট ট্রেনের সুবিধা
শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মানচিত্রে এক বিরাট বদল আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । মাত্র 3 ঘণ্টারও কম সময়ে বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি চলে আসা সম্ভব হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স ও পাহাড়ি অঞ্চলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে । ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিকমহলের মত
1 ফেব্রুয়ারি বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই বুলেট ট্রেনের ঘোষণা করার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে । এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, "এবার শিলিগুড়ির আবেগের সঙ্গে মিলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বুলেট ট্রেনে চেপে মানুষ চোখের পলকে পৌঁছে যাবে বারাণসীতে । এই বাজেট সাধারণ মানুষের সার্বিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।"
2027-এর মার্চের মধ্যে ডিপিআর তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বুলেট ট্রেনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর রেল মন্ত্রক । এখন দেখার, উত্তর পূর্ব ভারতের এই প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটা বাস্তবায়িত হতে পারে।