৩০ মিনিটে পরিষ্কার স্টেশন! পূর্ব রেলের ‘ক্লিনিং চ্যালেঞ্জ’-এ মিলল বড় সাফল্য
News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
মধুপুরঃ পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্করের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নির্দেশনায়, রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম জুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সেবার এক নীরব বিপ্লব চলছে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করার লক্ষ্যে, পূর্ব রেল মাসব্যাপী এক বিশাল সচেতনতা অভিযান থেকে এখন এক রোমাঞ্চকর, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর চ্যালেঞ্জে পদার্পণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, রেলওয়ে কেবল পরিবহনের একটি মাধ্যম নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও মর্যাদার এক নিবেদিত তত্ত্বাবধায়ক।
এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল অত্যন্ত সফল ‘স্বচ্ছতা সচেতনতা অভিযান’ (প্রথম পর্যায়) এর মাধ্যমে, যা গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে। দীর্ঘ ত্রিশ দিন ধরে রেলের টিমগুলি ২৪ ঘণ্টাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে; তারা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ছুটে গেছে এবং প্রতিটি যাত্রীর কাছে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছে যাতে তাঁরা রেল চত্বরকে নিজেদের বাড়ির মতো মনে করেন।
এই গভীর আবেগপূর্ণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে, গত ১৬ মে শিয়ালদহ স্টেশনে জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেওস্কর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে দ্বিতীয় পর্যায়— “৩০ মিনিটের ক্লিনিং চ্যালেঞ্জ”—এর সূচনা করেন। এই ধারণাটি নজিরবিহীন এবং যাত্রীদের বিশেষভাবে ক্ষমতায়ন করে; যদি কোনো যাত্রী পূর্ব রেলের যেকোনো স্টেশনে কোনো অপরিচ্ছন্ন জায়গা দেখতে পান, তবে তাঁরা কেবল সেই জায়গার একটি ছবি তুলে লোকেশন বা জায়গার বিবরণসহ টুইটার (এক্স) বা ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট ডিভিশনকে ট্যাগ করবেন, অথবা তাৎক্ষণিকভাবে ‘রেলমদদ’ (RailMadad) অ্যাপে আপলোড করে দেবেন। এটি রেলওয়ের কার্যদক্ষতাকে এক চরম পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কেরলে বর্ষা ঢোকার দিনক্ষণ জানিয়ে দিল মৌসম ভবন! উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ, দক্ষিণে বাড়বে অসহনীয় গরমএর ফলাফল প্রথম পর্যায়ের সাফল্যের এক বিরাট প্রমাণ; কারণ অভিযোগের সংখ্যা একেবারেই সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে দৈনিক লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীর মধ্যে পূর্ব রেল অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছে যে, মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি চ্যালেঞ্জ জমা পড়েছে—যার মধ্যে শিয়ালদহ ডিভিশন থেকে মাত্র বারোটি, হাওড়া থেকে ছয়টি, মালদা থেকে একটি এবং আসানসোল থেকে একটি অভিযোগ এসেছে। কর্তব্যপরায়ণতা ও ক্ষিপ্রতার এক অসাধারণ নিদর্শন দেখিয়ে, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে গেছেন এবং প্রতিশ্রুত ৩০ মিনিটের মধ্যেই এই প্রতিটি চ্যালেঞ্জের সফল সমাধান করেছেন।
এই মাইলফলকের বিষয়ে আলোকপাত করে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাজি জানান যে, প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্য ছিল সমস্ত চত্বর পরিষ্কার করা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে যাত্রীদের সম্পূর্ণরূপে সচেতন করে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই দ্বিতীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জের অত্যন্ত কম সংখ্যা দেখে পূর্ব রেল আজ গর্বের সাথে ঘোষণা করতে পারে যে, সকলের জন্য একটি নিষ্কলঙ্ক ও সুন্দর সফরের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পূর্ব রেল ।