চাকরির অপেক্ষা নয়! সূচ-সুতোর জাদুতে খুলছে ভাগ্য, এমব্রয়ডারির কাজে মাসে হাজার হাজার টাকা আয়
News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: দিন যত গড়াচ্ছে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারে এসেছে শৌখিনতা। পোশাক থেকে শুরু করে মানুষের ব্যবহারের নানা জিনিসও এখন কাস্টমাইজ করা হচ্ছে। একদিকে মানুষের চাহিদা আর অন্যদিকে এই সমস্ত জিনিস উপার্জনের পথ করে দিচ্ছে বেশ কয়েকজনকে। প্রথাগত পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পিছনে না ছুটে সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে স্বনির্ভরতার পথ বেছে নিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার দেউলী এলাকার বাসিন্দা অর্পিতা মাইতি। এডুকেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর এই যুবতী বর্তমানে ঘরে বসে সুতোর জাদুতে তৈরি করছেন শাড়ি, কুর্তি, পাঞ্জাবি, বেডশিট ও বালিশের কভারের মতো নানা সামগ্রী।
নিজের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে সামান্য উপকরণে তিনি আজ প্রতি মাসে কয়েক হাজার টাকা উপার্জন করছেন, যা গ্রামীণ এলাকায় নতুন প্রজন্মের কাছে স্বনির্ভর হওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগেও শাড়ি, কুর্তি কিংবা পাঞ্জাবিতে রং তুলি দিয়ে কলকা এঁকে কাস্টমাইজ করে দিতেন অনেকে। তবে এবার সেই চেনা স্বাদেও বদল এসেছে। এবার রং-তুলি দিয়ে কলকা আঁকা নয়, সূচ সুতো দিয়ে নতুন ধরনের এমব্রয়ডারি ডিজাইন ফুটিয়ে তুলে রোজগারের পথ দেখছেন অত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার এই যুবতী।
প্রতিমাসে বেশ রোজগার হচ্ছে তাঁর। প্রসঙ্গত, বাজার থেকে একটি টি শার্ট কিনতে খরচ পড়ে ২০০/৩০০ টাকা। সামান্য রঙিন সুতো কিনতে খরচ হয় ২০-৪০ টাকা। এক একটি এমব্রয়ডারি টি-শার্ট বিক্রি হয় ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে বাজার থেকে কেনা বেডশিট, পাঞ্জাবির উপর নানা ডিজাইন ফুটিয়ে তোলেন এই যুবতী। দাম রয়েছে ১৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে।
ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল অর্পিতার। পরবর্তীতে মায়ের কাছে এমব্রয়ডারির কাজে হাতেখড়ি হয় তার। বর্তমানে তিনি অন্যদের ছবি আঁকা শেখানোর পাশাপাশি নিজস্ব ডিজাইনের নানা সামগ্রী তৈরি করছেন। সামনেই বিয়ের মরশুম ও বিভিন্ন উৎসব, তাই কলকা ডিজাইন করা পাঞ্জাবি বা কাস্টমাইজ টি-শার্টের চাহিদা এখন তুঙ্গে। গ্রাহকদের রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী রঙিন সুতোয় নিখুঁত এমব্রয়ডারি ফুটিয়ে তোলেন তিনি।
অনলাইন ও অফলাইন – দুই মাধ্যমেই অর্পিতার তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল এই কাজ শুধু তাকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করেনি, বরং স্থানীয় স্তরে অন্য যুবতীদের মধ্যেও উৎসাহ জুগিয়েছে। একজন স্নাতকোত্তর পাস করা তরুণীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির আশায় বসে না থেকে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেই অর্পিতা আজ সফল। তার এই উদ্যোগ ও পরিশ্রম প্রমাণ করছে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পথ তৈরি করা সম্ভব।