সামান্য পরিবর্তনে একলাফে বেড়ে গেল অর্ডার, মুঠো মুঠো আয় করছেন বাংলার 'এই' শিল্পীরা
News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: প্রথাগত মাদুর মানেই ছিল মেঝেতে পাতার আসন। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে চাহিদাও। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের সারতা গ্রাম এখন পরিচিত মসলন্দ মাদুরের সৃজনশীল বৈচিত্র্যের জন্য। একসময়ে রাষ্ট্রপতি সম্মান পাওয়া এই শিল্পের গৌরব আজ জেলার গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছেছে দেশ ও বিদেশের বাজারে। স্থানীয় শিল্পীরা কেবল মাদুর বুননেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং মাদুরকাঠিকে ব্যবহার করে তৈরি করছেন নিত্যনতুন শৌখিন সামগ্রী।
মসলন্দ মাদুরের বিশেষত্ব হল এর সূক্ষ্ম বুনন। মাদুরকাঠি থেকে দাঁত দিয়ে সতর্কভাবে আঁশ ছাড়িয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতোর মত তন্তু তৈরি করতে হয়। এরপর সেই তন্তু দিয়ে বোনা হয় মসলন্দ মাদুর। এই শ্রমসাধ্য কাজের জন্যই এই মাদুরের কদর সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি। তবে বর্তমানে সবংয়ের শিল্পীরা প্রথাগত মাদুরের বাইরে বেরিয়ে তৈরি করছেন ফাইল কভার, মানিব্যাগ, মহিলাদের ফ্যাশনেবল ব্যাগ, জুতো, ক্যালেন্ডার, ঘড়ি এমনকি টিফিন বক্সের কভার। সবং, নারায়ণগড় সহ কয়েকটি জায়গায় ধানের মত মাদুরকাঠির চাষ করা হয়। এরপর সেই মাদুরকাঠি শুকিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই সমস্ত জিনিস তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুন: ডোরাকাটা দাগ দেখেই শিউরে উঠলেন বাড়ির সদস্যরা, ‘চিতাবাঘ’ ভেবে লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির! সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা বাঘরোলেরসারতা গ্রামের বাসিন্দা ও মাদুর শিল্পী অশোক জানা এই পরিবর্তন এনেছেন। তার হাত ধরে তৈরি হচ্ছে বাহারি সব কাস্টমাইজ সামগ্রী। অশোকবাবুর মত গ্রামের বহু মানুষ এখন এই শিল্পে যুক্ত হয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি কলকাতা ও বিভিন্ন সরকারি মেলায় এই পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আধুনিক রুচি ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সমস্ত সামগ্রী এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও সমান জনপ্রিয়। ফাইল কভারের দাম রয়েছে একশ টাকা, মানি ব্যাগ ৫০ টাকা, জুতো ২০০ টাকার মধ্যে, ঘড়ির দাম রয়েছে ৪০০ টাকার মধ্যে। সব জিনিসের দাম রয়েছে ৫০০ টাকার মধ্যে। এক একটি জিনিস তৈরি করতে মজুরি ও কাঁচামাল বাবদ খরচ প্রায় ৪০-৫০ টাকা। বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। ঘড়ির সরঞ্জাম কিনলেও, বাকি ঘড়ি সাজিয়ে তোলা হয় সূক্ষ্ম মাদুর কাঠি দিয়ে।
একদিকে মাদুরের তৈরি এই ব্যবহার্য জিনিসগুলি সাধারণ বাজারের তুলনায় বেশ ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে, অন্যদিকে সবংয়ের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পও নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রথাগত ম্যাট বা মাদুরের পরিবর্তে কাস্টমাইজ পণ্যের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন শিল্পীদের উপার্জনের নতুন পথ খুলে দিয়েছে, তেমনই বিশ্ববাজারে সবংয়ের মাদুর শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। হাতের কাজের এই জাদুতে একদিকে যেমন বেঁচে আছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, তেমনই স্বনির্ভরতার নতুন ইতিহাস লিখছেন সবংয়ের শিল্পীরা।