• পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা জানা জরুরি, জাতিগণনা সংক্রান্ত মামলায় বলল সুপ্রিম কোর্ট
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা কত, কেন্দ্রীয় সরকারের তা জানা দরকার। সমাজকল্যাণ মূলক পদক্ষেপের জন্য এটা জরুরি। এই যুক্তি দেখিয়ে জাতিগণনার বিপক্ষে জমা পড়া আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।

    দেশে জনগণনার সঙ্গে যাতে জাতিগত গণনা না হয়, এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়েছিল। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে তা নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। শীর্ষ আদালত এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘জাতিগত জনগণনা হওয়া উচিত কি উচিত নয়, তা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।’ তবে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নতির স্বার্থেই সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত তথ্য থাকা উচিত।

    আবেদনে মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, জাতিগত জনগণনা হলে তার তথ্যের অপব্যবহার করতে পারে বিভিন্ন সংস্থা। তার জেরে সমাজে তো বটেই, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে ভবিষ্যতে। তার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ২০২৭ সালের জনশুমারিতে জাতিগণনা হবে কি না, এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় আদালত নেই। তা আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে না। ফলে সাংবিধানিক পর্যালোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

    জাতিগণনার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে টানাপড়েন চলছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, আজকের দিনে বিভিন্ন জাতিগুলির আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে জাতিভিত্তিক জনগণনার প্রয়োজন রয়েছে। তা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যে জাতিগুলি সংরক্ষণের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছে, জনগণনার মাধ্যমে তাদেরও সংরক্ষণের আওতায় এনে সমতা রক্ষা করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক ভাবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অনীহা থাকলেও, পরবর্তী কালে অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এ বার জনশুমািরর সঙ্গে জাতিগত গণনাও হবে।

  • Link to this news (এই সময়)