রাজস্থানের কোটা থেকে বাংলার হাওড়া, গত এক সপ্তাহে একের পর এক ট্রেনে অগ্নিকাণ্ড। এই ঘটনার পিছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আশঙ্কা করছে ভারতীয় রেল। দুর্ঘটনা নয়, এটি অন্তর্ঘাত বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার পিছনে সমাজবিরোধীদের যুক্ত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। নাশকতার তত্ত্বকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
গত রবিবার তিরুবনন্তপুরম-হজ়রত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসে (12431) এসি কোচে আচমকা আগুন লেগে যায়। সেই শুরু, তার পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এমনকী মঙ্গলবারই হাওড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মিথিলা এক্সপ্রেসের জেনারেল কম্পার্টমেন্টের শৌচাগার থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। তারপরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই ভাবে ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনাগুলিকে ঘিরে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনাগুলির পিছনে সমাজবিরোধীদের হাত থাকতে পারে।
এ দিন রেলের তরফে জানানো হয়, রাজস্থানের অমরপুরা ও কোটা, বিহারের সাসারাম এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া স্টেশনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করছে রেলওয়ে প্রোটেশন ফোর্স (RPF)।
রেলের বক্তব্য অনুযায়ী, অমরপুরার ঘটনায় ট্রেনের চাদর বা যাত্রীদের বিছানাপত্রে ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন ধরানোর চেষ্টা হয়েছিল। হাওড়া স্টেশনের ঘটনায় একটি কোচের বাথরুম থেকে পেট্রলে ভেজানো কাপড় উদ্ধার হয়েছে, যা নাশকতার সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
কোটা-র ঘটনায় রাজধানী এক্সপ্রেসের বাথরুম থেকে আগুনের শিখা বেরোতে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, সাসারামে একটি খালি কোচের ভিতরে অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিকে জ্বলন্ত কিছু ছুড়ে দিতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। রেলের দাবি, এই ঘটনাগুলি ষড়যন্ত্র করেই ঘটনা হয়েছে।
রেল মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির তদন্তে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, একাধিক ক্ষেত্রে সমাজবিরোধীরা জড়িত।’ যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
যাত্রীদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ। সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে রেল হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন ও স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও খবর।