• থার্মোমিটারে কলকাতার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি, রিয়েল ফিল ৫২! কেন এত তারতম্য হয় জানেন?
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • ভয়াবহ গরমে জেরবার কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। বাড়ির বাইরে বেরোলে গরমে গা পুড়ে যাচ্ছে। আর ঘরে থাকলে পাখার ফুলস্পিডও অস্বস্তি কাটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। হওয়ারই কথা। ঘামের অবিরাম ধারা স্নান থেকে স্বস্তির একমাত্র উপায় ক্রমাগত এসি–তে বসে থাকা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস ছিল, বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। বিকেলের দিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ দিন দুপুর সাড়ে তিনটের পরে কলকাতায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতও শুরু হয়। তবে তাতে স্বস্তির থেকে অস্বস্তিটাই বেশি বেড়েছে। কিন্তু, এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ শহরের তাপমাত্রার ‘রিয়েল ফিল’ ৫২ ডিগ্রি! অর্থাৎ, থার্মোমিটারের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে শরীরে। কিন্তু কেন এমন হয়?

    সাধারণত, আবহাওয়া দপ্তরের ওয়েবসাইটে কিংবা ফোনের স্ক্রিনে যে তাপমাত্রা দেখা যায় সেই তথ্য বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ওয়েদার স্টেশনের রেকর্ড থেকে পাওয়া যায়। প্রতিটি ওয়েদার স্টেশনে থাকে বিশেষ থার্মোমিটার। সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ১.২৫ মিটার থেকে ২ মিটার উচ্চতায় এই থার্মোমিটার রেখে সেই তাপমাত্রার পরিমাপ করা হয়।

    ‘রিয়েল ফিল’ তাপমাত্রাকে সহজ কথায় বলা যায় ‘গায়ে যেমন লাগছে’ তাপমাত্রা। এটা হলো এমন একটা পরিমাপ, যা কোনও একটা নির্দিষ্ট সময়ে একটা নির্দিষ্ট জায়গার আবহাওয়া মানুষের শরীরে আসলে কতটা গরম বা ঠান্ডা অনুভূত করায় — তা বোঝায়।

    তাপমাত্রার অনুভূতি কতটা হবে, তা নির্ভর করে মূলত দু’টি ফ্যাক্টরের উপরে — বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং হাওয়ার গতিবেগ। সাধারণত বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে তাপমাত্রার অনুভূতি বেশি হয়। গরমের সময়ে শরীর থেকে ঘাম নিঃসৃত হয়। এই ঘাম বাষ্পীভূত হলে দেহ দ্রুত ঠান্ডা হয়। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে ঘাম বাষ্পীভূত হতে পারে না। ফলে গরম বেশি অনুভূত হয়।

    অন্যদিকে, বাতাসের গতিবেগের কারণেও প্রভাব পড়ে তাপমাত্রার উপরে। বাতাসের গতিবেগ বাড়লে তাপমাত্রার অনুভূতি কিছুটা কমবে। অন্যদিকে, বাতাস যদি স্থির থাকে, তবে গরমের অনুভূতি বেশি হবে। সেই কারণেই গরমের বিকেলে জোরে হাওয়া দিলে কিংবা কালবৈশাখী পরিস্থিতি তৈরি হলে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা কমে যায়।

    এ ছাড়াও, সূর্যালোকের তীব্রতাও তাপমাত্রার রিয়েল ফিলের উপরে প্রভাব ফেলে। যদি, সূর্যের আলো সরাসরি শরীরের উপরে পড়ে, সেক্ষেত্রে দেহে গরমের অনুভূতি বেশি হয়। সেই কারণেই গরমের সময় ছায়াযুক্ত এলাকায় বেশি আরাম লাগে। আবার শরীরের ঘাম বাতাসে মিশে যাওয়ার সুবিধা থাকে বলে বদ্ধ ঘরের চেয়ে চড়া রোদও অনেক সময়ে বেশি স্বস্তিদায়ক বলে মনে হয়।

    তথ্য সহায়তা: কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

  • Link to this news (এই সময়)