• ওষুধ বিক্রেতাদের ধর্মঘট, মিশ্র প্রভাব রাজ্যে
    আজকাল | ২০ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার দেশজুড়ে ওষুধের দোকান বন্ধের ডাক দিয়েছিল সর্বভারতীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এআইওসিডি। অনলাইনে ওষুধ বিক্রির বিরোধিতা এবং একাধিক দাবির সমর্থনে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে এ দিন ধর্মঘটের মিশ্র প্রভাব দেখা গেল রাজ্যে। বড় কর্পোরেট ফার্মেসি সংস্থা, সরকারি জেনেরিক ওষুধের দোকান এবং বেশ কিছু পাড়ার ওষুধের দোকান খোলা। ফলে চরম ভোগান্তির মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছে সাধারণ মানুষ। স্বাভাবিক রয়েছে জরুরি ওষুধের সরবরাহের পরিষেবাও।

    সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর খবর, রাজ্যে এই ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে মূলত 'বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন' (বিসিডিএ)-র সদস্যরা। তাই বুধবার রাজ্যে ধর্মঘট সত্ত্বেও বড় বেসরকারি ওষুধের দোকান সারাদিনই খোলা। রাজ্যজুড়ে 'প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র' এবং 'অমৃত' ফার্মেসির মতো সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের দোকানগুলিও খোলা রাখা রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কিনতে সমস্যায় পড়ছেন না গ্রাহকেরা।

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যে বিসিডিএ-অধিভুক্ত প্রায় ৩২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ইউনিটের মধ্যে ২৮ হাজার থেকে ৩১ হাজার সাধারণ খুচরো ওষুধের দোকান রয়েছে। বাকি অংশটি পাইকারি বিক্রেতা, পরিবেশক এবং ক্যারিং-অ্যান্ড-ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের। অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের এই সমস্ত দোকানই ধর্মঘটে সামিল হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির ভেতরে থাকা ওষুধের দোকানগুলি খোলা থাকায় রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়নি।

    উল্লেখ্য, দেশের প্রায় ১২.৪ লক্ষ ওষুধবিক্রেতাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন 'অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস' (এআইওসিডি) এই দেশব্যাপী বন্ধের ডাক দিয়েছিল। ই-ফার্মেসি বা অনলাইনে ওষুধ বিক্রির বদলে স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতাদের বাঁচাতে তাদের এই ধর্মঘট। মূল অভিযোগ, অনলাইন ফার্মেসি প্ল্যাটফর্ম এবং ইনস্ট্যান্ট ওষুধ ডেলিভারি অ্যাপগুলি যে অতিরিক্ত ছাড় দিয়ে ব্যবসা করছে, তা সাধারণ খুচরো বিক্রেতাদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। অনলাইন ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে উপযুক্ত যাচাইকরণের অভাব রয়েছে। এর ফলে জাল প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে নেশা তৈরি করতে পারে এমন ওষুধ অপব্যবহারের আশঙ্কা বাড়ছে। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস-এর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রককে অনলাইন ফার্মেসি পরিচালনার ক্ষেত্রে দেওয়া কিছু ডিজিটাল ছাড় বা শিথিলতা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

    এদিকে সরকারি সূত্রের খবর, ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল বা জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি ফার্মেসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। সেখানে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ডিজিটাল মাধ্যমের বিকাশ এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার জন্য ই-ফার্মেসি সেক্টরের নিয়ন্ত্রক কাঠামোটি পুনর্মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (আজকাল)