'এক ভোটে হলেও জিতব’ বলেছিলেন, সেই ভবানীপুরে কোন কোন বুথে হারলেন মমতা?
আজ তক | ২০ মে ২০২৬
এবারের ভোটে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল ভবানীপুর। সকলের নজর ছিল এই কেন্দ্রের দিকে। বিজেপি শুভেন্দু অধিকারীকে এই আসনে টিকিট দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেনছিলেন, 'আমি ভবানীপুর থেকে জিতব, এক ভোটে হলেও জিতব।' কিন্তু ফল বেরোতে দেখা গেল এই কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন তিনি। ভবানীপুরের বেশ কয়েকটি বুথে ৫০টি ভোটও পাননি তৃণমূলনেত্রী। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে এমনি সব চাঞ্চল্যকর বিষয়। চলুন দেখে দেনেওয়া যাক ভাবনীপুরের ২৬৭টি বুথের মধ্যে কোথায় কেমন রেজাল্ট করেছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
ভাবনীপুরে কোন বুথে কত ভোট পেলেন মমতা?
প্রকাশিত বুথভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোট ২৬৭টি বুথের মধ্যে ২০৭টিতে এগিয়ে ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে ছিলেন মাত্র ৬০টি বুথে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কয়েকটি বুথে তৃণমূল নেত্রী ৫০টি ভোটও পাননি। জানা যাচ্ছে, ২২৭ নম্বর বুথে তৃণমূলনেত্রী মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ভবানীপুর বিধানসভায় প্রতিটি বুথেই ভোটদাতার সংখ্যা মোটামুটি ৪০০-৭০০র মধ্যে। এরমধ্যে এমন একাধিক বুথ রয়েছে, যে বুথগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী ১০০ ভোটও টপকাতে পারেননি। যেমন ১১ নম্বর বুথে মমতা পেয়েছেন ৭০টি ভোট। সেই বুথে আবার শুভেন্দু পেয়েছেন ১০৬টি ভোট। ১৪ নম্বর বুথে মাত্র ৪৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৬ নম্বর বুথে ৪২টি ভোট মিলেছে। ২০ নম্বর বুথে তৃণমূল নেত্রী পেয়েছেন মাত্র ৪১টি ভোট। অন্যদিকে, ২৪ নম্বর বুথে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঝুলিতে গেছে ৪৫টি ভোট এবং ৭৭ নম্বর বুথে মমতা পেয়েছেন মাত্র ৪০টি ভোট। সেইসঙ্গে, ৮৯ নম্বর বুথে তৃণমূল নেত্রী পেয়েছেন ৪১টি ভোট এবং ১০৫ নম্বর বুথে মাত্র ৩১টি ভোট পেয়েছেন তিনি। অপরদিকে, ১৪৯ নম্বর বুথে মমতার ঝুলিতে গেছে ৪৪টি ভোট, ১৫৮ নম্বর বুথে তিনি পেয়েছেন ৪৬টি ভোট, ১৭৬ নম্বর বুথে ২৯টি ভোট। ২৪২ নম্বর বুথে ৪০টি, ২৪৯ নম্বর বুথে ২৮ ভোট এবং ২৬৩ নম্বর বুথে মাত্র ৩০ ভোট পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ২৮টি বুথে। উল্টো দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে।
এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রে জিতে এসেছেন। নিজেকে ‘ঘরের মেয়ে’ বলে প্রচার করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে তাঁর এই হার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ২০২১ সালে ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা ৮৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে তিনি ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। ২১ সালের বিধানসভা ভোটে যে দু’টি ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল, সেই ৭০ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড উপনির্বাচনে লিড দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভবানীপুরের ৭টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এ বার ভবানীপুর মমতাকে দিয়েছে ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ৪২.১৯% ভোট । বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট। শতাংশের বিচারে ৫৩.০২ % ভোট।
প্রসঙ্গত, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর তিনি ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়াই করে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। সেই সময় ভবানীপুর তাঁর জন্য পুনরুদ্ধারের কেন্দ্র ছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পর সেই একই আসন রাজনৈতিকভাবে পাশা উল্টে দিল।
এদিকে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ভবানীপুরের আপামর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর বক্তব্য, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অহঙ্কার চূর্ণ করে আপনারা আমাকে জয়ী করেছেন, আমি সারাজীবন আপনাদের ভাইয়ের মতো পাশে থাকব।' দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রের বিরাট জয়কে তিনি সম্পূর্ণভাবে সেখানকার সাধারণ বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যেই উৎসর্গ করেছেন।