চন্দ্রনাথ খুনে চতুর্থ অভিযুক্তকে সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ মে ২০২৬
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৪। ধৃতরা সকলেই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। এই খুনের মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআই সোমবার উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজকুমার সিংকে। গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে মঙ্গলবার রাজকুমারকে বারাসতে আনা হয়। এদিন এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে বারাসতে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজির করে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার আর্জি মেনে বিশেষ আদালতের বিচারক রাজকুমারকে ৫ দিন সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে চন্দ্রনাথ খুনে চার অভিযুক্তকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। প্রিজন ভ্যানে বসেছিলেন ধৃত রাজকুমার। একেবারেই নির্বিকার ছিল তিনি। প্রিজন ভ্যানে বসেই রাজকুমারকে নিজের গোঁফ পাকাতে দেখা গিয়েছে। ছবি তোলার সময় চিত্র সাংবাদিকদের দিকে চোখে চোখ রেখে নজর রাখতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। বিকেল চারটের সময় কোর্ট লকআপ থেকে চার অভিযুক্তকে আনা হয় এজলাসে। এদিন সওয়াল শেষে দীর্ঘক্ষণ রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারক। শেষে রাত সাড়ে আটটায় রাজকুমারকে ৫ দিনের সি বি আই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
চন্দ্রনাথের খুনের পিছনে কী রহস্য আছে তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে এই চারজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে খবর। এই খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট বিহারের বক্সার থেকে গ্রেপ্তার করে বিশাল শ্রীবাস্তবকে। এরপর পুলিশের জালে ধরা পড়েন রাজ সিং এবং মায়ঙ্ক মিশ্র। তার পর এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই। ধৃতদের জেরা করে রাজকুমার সিংয়ের নাম সামনে আসে।
গোপন সূত্রে খবর মেলে এই দুষ্কৃতী উত্তরপ্রদেশে আত্মগোপন করে রয়েছে। কিন্তু প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এই শার্প শুটার। রাজকুমারকে জালে পুরতে উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে সিবিআইয়ের ডিএসপি রাজেশ কুমারের নেতৃত্বে একটি দল উত্তরপ্রদেশের ছাপ্পর টোল প্লাজা থেকে রাজকুমারকে গ্রেপ্তার করে।
রাজকুমারকে গ্রেপ্তার করতে সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের বিশেষ সহায়তা করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বস্তুত, চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এটাই সিবিআইয়ের প্রথম গ্রেপ্তারি। সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের দাবি, খুনের রাতে রাজকুমারও গুলি চালিয়েছিলেন। রাজকুমারকে গ্রেপ্তারের পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে বারাসত আদালতে হাজির করে সিবিআই।
সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের একটি জায়গা থেকে চন্দ্রনাথকে খুনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রাজকুমারকে জেরা করেই এই খুনের রহস্য ভেদ করা যাবে বলে মনে করছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন পর অর্থাৎ ৬ মে রাতে খুন হয়ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। মধ্যমগ্রামের মতো এক জনবহুল এলাকায় রাস্তার উপরেই চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হম চন্দ্রনাথের গাড়ির চালকও।