প্রশাসনিক বৈঠকে নতুন দিগন্ত: এবার বিরোধী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ মে ২০২৬
প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানালেন, এখন থেকে রাজ্যের প্রতিটি প্রশাসনিক সভায় শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী দল-সহ সব রাজনৈতিক দলের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানানো হবে।
বুধবার উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, সাংসদ রাজু বিস্তা, মনোজ টিগগা, রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়করা। বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ‘রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং সরকারি প্রকল্পগুলি সঠিক রূপায়ণের জন্য প্রশাসনিক আলোচনার প্রয়োজন।‘ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে আমরা বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানাব, তারা যে দলেরই হোন না কেন।‘
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, শুধুমাত্র বিধায়কই নয়, বিজেপির মনোভাবাপন্ন বা ‘লাইক-মাইন্ডেড’ সাংসদদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকার জন্য তিনি মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনার জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিশ্বব্যাপী সংকট এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় এই সভায়। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়ক বা সাংসদদের সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হতো না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিবিড় যোগাযোগের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করতে পারে, যেখানে দলমত নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিরা সরকারি উন্নয়নমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।