উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে শিলিগুড়িতে নেমেই বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-এ কীভাবে কাজ হয়েছে? কতটা কাজ হয়েছে? সেইসব ফাইল এবার খোলা হবে। সেই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ দুর্নীতি হয়েছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। সেসব ধামাচাপা পড়ে যায় বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ। এবার বিজেপি সরকার কাজ শুরুর পরেই জিটিএ দুর্নীতির তদন্ত শুরু হবে। ফাইল খোলা হবে।উত্তরবঙ্গে নেমেই পাহাড়ে ‘সাফাই অভিযানে’র হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।
এর আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক একইভাবে উত্তরকন্যায় দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। সব কিছু তদন্ত করে দেখা হবে, সেই হুঁশিয়ারি তিনিও জানিয়েছিলেন। এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে তিনি উত্তরকন্যায় বসে কাজকর্ম দেখাশোনা করবেন। সেই কথাও জানা গিয়েছে। গত শনিবার নিশীথ প্রামাণিক উত্তরকন্যায় গিয়েছিলেন। বহু ক্ষেত্রে কেবল ‘কাগজ-কলমে’ কাজ হয়েছে! উত্তরকন্যায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল দেখে হতবাক হয়েছিলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। একাধিক ঠিকাদার সংস্থাকে ঠিকাদারদের ব্ল্যাক লিস্টেড করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মন্ত্রী। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জিটিএ ফাইল খোলার মন্তব্য, যথেষ্ট হইচই ফেলে দিয়েছে পাহাড়ে।
দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। পাহাড়ের উন্নয়নের কারণে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল আমলে অনীত থাপা, বিনয় তামাংরা দায়িত্বে ছিলেন। তৃণমূল আমলে উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে না, কেবল প্রচারকে সামনে রেখে আড়ালে আখের গোছাচ্ছেন নেতারা! সেই অভিযোগ বিজেপির তরফে একাধিক বার উঠেছিল। এবার সেই জিটিএ ফাইলস-ই খুলতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে বাজিমাতের পর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের লক্ষ্য জিটিএ। স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগে ‘লালকুঠি’ ঘেরাও অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল অতি সম্প্রতি। তবে পর্যটনের ভরা মরশুম থাকায় সেই অভিযান থেকে আপাতত সরে এসেছিলেন তিনি। তৃণমূল আমলে প্রবল দুর্নীতি জিটিএ-তে হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন বিমল।