বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে ‘আইপ্যাক’-এর লোক! ‘সারপ্রাইজ ভিজিটে’ গিয়ে বিস্ফোরক বিজেপি বিধায়ক
প্রতিদিন | ২০ মে ২০২৬
সকাল ১০ টা ১৫ থেকে বিকাল ৫ টা ১৫। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বেঁধে দেওয়া ‘অফিস আওয়ার’ একেবারে ব্লক কার্যালয়ে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা দেখতে পুরুলিয়া (Purulia) দু’নম্বর ব্লকে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করলেন পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পুরুলিয়া দুই ব্লক কার্যালয়ে যান। সেখানে পা রেখেই চমকে ওঠেন। যেখান থেকে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয় সেখানে ফাইলের স্তূপ। বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, কর্মসংস্কৃতি ফেরাতেই হবে। সোমবার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড ক্যাম্পাসে গিয়েও স্বাস্থ্যকর্মী থেকে চিকিৎসকদের কাছে একই আবেদন রাখেন তিনি।
বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পরেই পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ একেবারে অ্যাকশন মুডে। সোমবার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে আসার পর জেলা প্রশাসনিক ভবনে সরকারি অনুষ্ঠানে স্বয়ং জেলাশাসককে বলেছিলেন, মানুষকে হয়রান করবেন না। যেদিন কাজ করতে পারবেন সেই দিনই আসতে বলুন। আর সেই কথা বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একেবারে ব্লক কার্যালয়ে হাজির সুদীপ। ব্লকের সারপ্রাইজ
ভিজিট শেষে মারাত্মক অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের নামে সেখানে এখনও আইপ্যাকের লোকেরা ঢুকে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন এটা বেআইনি নিয়োগ। বেআইনি পদ। প্রশাসনকে বলেছি এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে।”
এদিন পুরুলিয়া (Purulia) ২ ব্লকের বিভিন্ন টেবিলে ফাইলের পর ফাইল দেখে তিনি কার্যত হতবাক হয়ে যান। বিধায়ক বলেন, কর্মসংস্কৃতি ফেরাতেই হবে। তখন জাতিগত শংসাপত্র জনিত কাজ করা এক কর্মী বলেন, এখানে প্রায় ৫০০ আবেদন পত্র রয়েছে। তিনি প্রতিদিন ১০০ টি করে আবেদনপত্র যাচাই করে নিতে পারবেন। তখন বিধায়কের নির্দেশ, এই কাজ আপনি ২৭ তারিখের মধ্যে শেষ করুন। পুরুলিয়া দু’নম্বর ব্লকের প্রধান করণিক সুশোভন দাস বলেন, ” বিধায়ক বলেছেন কর্মসংস্কৃতি ফেরাতেই হবে। সকাল ১০:১৫ থেকে বিকাল ৫:১৫। এই ডিউটি যেন সঠিকভাবে চলে।”
একইভাবে দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়েও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের পরিষেবা, চিকিৎসক, সেবিকা থেকে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা সঠিকভাবে ডিউটি করছেন কিনা তার নজরদারি চালান। বিধায়ক বলেন, ” আমি এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়মিত আসি। কলকাতাতেও যাই। বাঁকুড়াতেও যোগাযোগ রয়েছে। ঝাড়খন্ডেও আছে। হাসপাতালে এসে এটাই বলেছি, সরকার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। আগে হাসপাতালগুলোতে ‘ক্রীতদাস’-র মতো আসতাম। আর এখন সাধারণ নাগরিকের মত এসেছি। আগে নাগরিকত্বই ছিল না। একটা শ্রেণি সব জায়গায় এমন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। সবাইকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন মানবিক সরকার এসেছে। কাজেও তার প্রতিফলন চায়। ” সেই কারণেই হাসপাতাল থেকে ব্লক কার্যালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিটে বিধায়ক সুদীপ।