সমুদ্রের বাঁধ থেকে ফ্লাড শেল্টার, দুর্যোগ রুখতে দিঘা-মন্দারমণিতে আগাম প্রস্তুতি
News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
তমলুক, সৈকত শী: ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে মে মাসের শেষভাগ। আর এই সময়টাই যেন রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলির জন্য এক আতঙ্কের বার্তা বয়ে আনে। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, মে মাস এলেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত এবং তা থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা ‘সাইক্লোন’ তৈরির প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। ‘আইলা’, ‘আমফান’ থেকে শুরু করে ‘যশ’ – একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার তছনছ হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, এবার আর শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নয় জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে জেলা প্রশাসন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা বিপর্যয় মোকাবিলায় বৈঠক শুরু করল। দিঘা, মন্দারমণি, খেজুরি, হলদিয়া এবং নন্দীগ্রামের মত ব্লকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্যোগের দিনগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য আগাম রূপরেখা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাড শেল্টার প্রস্তুত রাখা। অভিযোগ বেশ কিছু ফ্লাড শেল্টার জবরদখল হয়ে রয়েছে। সেগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এলাকার বিডিওদের।
আরও পড়ুন: বাংলার এই প্রাচীন কালী মন্দিরের টানে ছুটে আসে বিদেশিরাও, ভুটান সীমান্তে শান্তির ঠিকানা! ইতিহাস জানলে গায়ে কাঁটা দেবেজেলার সমস্ত সাইক্লোন বা ফ্লাড শেল্টারগুলির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে পানীয় জল ও আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য শুকনো খাবার, বেবি ফুড, ত্রিপল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ব্লকে ব্লকে মজুত করার কাজ শুরু হয়েছে। সেচ দফতরের সহযোগিতায় সমুদ্র ও নদীর দুর্বল বাঁধগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা জুড়ে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পৌরসভাগুলিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছিল। সেগুলির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন রয়েছে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগকে রোখা আমাদের হাতে নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা কোনও ফাঁক রাখতে চাইছি না। ফ্লাড শেল্টারগুলিকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” সবমিলিয়ে, প্রকৃতির রুদ্ররূপের মোকাবিলা করতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন আগাম কোমর বেঁধে নামল।