কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভায় চরম আর্থিক সঙ্কটের জের। এপ্রিল মাসের বেতন ও পেনশন আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন প্রায় দেড়শো থেকে দু’শো অস্থায়ী কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী, দিনমজুর, ফিল্ড স্টাফ এবং পেনশনভোগীরা। মে মাসের ১৯ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখনও বেতন না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে কর্মীদের মধ্যে। যদিও পুরসভার ২৯ জন স্থায়ী কর্মীর বেতন ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
দাঁইহাট পুরসভার হেডক্লার্ক ইনচার্জ রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, বেতন ও পেনশন বাবদ প্রায় ২১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা পেনশন খাতে খরচ হয়। অভিযোগ, কিছু অর্থ কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে পাওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও মেলেনি। ফলে বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দাঁইহাট পুরসভার হেডক্লার্ক ইনচার্জ রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, পুরপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আরও সাতদিন অপেক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জরুরি পরিষেবা চালু রেখে কর্মবিরতির পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মীরা।
অন্যদিকে দাঁইহাট পুরসভার পুরপ্রধান সমর সাহা জানান, জানুয়ারি মাসে শেষবার কোয়ার্টারলি ফান্ড মিলেছিল। এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা আসেনি। পুরসভার নিজস্ব তহবিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় অস্থায়ী কর্মী, দিনমজুর ও পেনশনভোগীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ফান্ড এলেই বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রয়েছে এবং কোনও পরিষেবা বন্ধ হয়নি।এদিকে পেনশন না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও। প্রাক্তন হেড ক্লার্ক প্রসাদ কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রায় ৪৫ জন পেনশনভোগী এই সমস্যায় ভুগছেন। বারবার পুর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও “ফান্ড নেই” বলেই জানানো হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা ফের পুরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান। যদিও পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থাভাবে সাময়িক সমস্যা তৈরি হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।