গভীর রাত পর্যন্ত চলে দর্শন-পুজো, বর্ধমানে মা যোগাদ্যার টানে ফের জনপ্লাবন ক্ষীরগ্রামে
News18 বাংলা | ২০ মে ২০২৬
মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান: জ্যৈষ্ঠ মাসের চার তারিখেও উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড় পূর্ব বর্ধমান জেলার ক্ষীরগ্রামে। সতীপীঠ মা যোগাদ্যা মন্দিরে মা যোগাদ্যার দর্শন পেতে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় হাজার হাজার ভক্তকে। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এদিন ক্ষীরগ্রামে পৌঁছন। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও ভক্তদের উৎসাহে ছিল না কোনও ভাটা। গোটা মন্দির চত্বর জুড়ে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুজো দেওয়ার পরে বেশ কিছু ভক্তরা জানান, “মায়ের টানেই দূর দূর থেকে ছুটে আসা। গরম উপেক্ষা করে মায়ের আশীর্বাদ নিতেই আমরা এসেছি, পুজো দিতে পেরে একটা আলাদাই অনুভূতি হচ্ছে।” প্রতিবছরের মতো এবারও ৩০শে বৈশাখ গভীর রাতে, অর্থাৎ ৩১শে বৈশাখ ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে ক্ষীরদিঘির জল থেকে মা যোগাদ্যাকে তোলা হয়। এরপর ভক্তরা দড়ি দিয়ে টেনে দেবীকে নিয়ে যান উত্থান মন্দিরে। সেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্য দেবীকে রাখা হয় যাতে সাধারণ মানুষ দর্শন ও পুজো দেওয়ার সুযোগ পান।
আরও পড়ুন Poor to Crorepati Comedian Story: জীবনে উলটপুরাণ, মৃত্যুশয্যার এক মহিলার আশীর্বাদে রেস্তোরাঁয় বাসন ধোয়ার কাজ থেকে এখন কোটিপতি কমেডিয়ান সুদেশ
এরপর জ্যৈষ্ঠ মাসের চার তারিখ বিকেলে ফের দেবীকে জল থেকে তোলা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে দর্শন, পুজো ও বিশেষ ধর্মীয় আচার। পরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবারও দেবীকে জলে নামিয়ে দেওয়া হয়। মন্দির কমিটির সদস্য দীনবন্ধু চক্রবর্তী জানান, “ ৪ জ্যৈষ্ঠতেও প্রতিবছর প্রচুর ভিড় হয়। এদিন মায়ের অভিষেক হয়। বহু ভক্ত মায়ের দর্শন করতে আসেন। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শন চলে। তারপর বিশেষ পুজো ও বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করে পুনরায় মাকে জলে নামিয়ে দেওয়া হয়।”
জনশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষীরগ্রামেই সতীদেহের ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল। সেই কারণেই এই স্থানকে অন্যতম সতীপীঠ হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়। এখানে মা যোগাদ্যার প্রস্তরমূর্তি সারা বছর ক্ষীরদিঘির জলের তলায় রাখা থাকে। প্রতি বছর বৈশাখ সংক্রান্তির বিশেষ তিথিতে দেবীকে জল থেকে তুলে এনে পুজো করা হয়। সেই বিরল মুহূর্ত দেখার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন অসংখ্য ভক্ত। শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে ঘিরে আজও ক্ষীরগ্রামে তৈরি হয় ভক্তি ও আবেগের এক অনন্য পরিবেশ। প্রতি বছর মা যোগাদ্যার দর্শনে হাজার হাজার মানুষের সমাগমই তার প্রমাণ।