শান্তিপুর, নদিয়া: ভাল দাম পেতে আমের গায়ে কাগজের জামা, নতুন পদ্ধতিতে আশাবাদী নদিয়ার চাষিরা। বাজারে ভাল দাম পেতে এবার অভিনব পদ্ধতির পথে হাঁটছেন নদিয়ার আম চাষিরা। আমকে পোকামাকড়, দাগ ও প্রাকৃতিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে আমের গায়ে পরানো হচ্ছে বিশেষ ধরনের কাগজের জামা। নতুন এই পদ্ধতি ঘিরে উৎসাহ দেখা গিয়েছে শান্তিপুর, ফুলিয়া, মাজদিয়া, কৃষ্ণগঞ্জ-সহ জেলার বিভিন্ন আম উৎপাদনকারী এলাকায়।
চাষিদের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারদর অনেকটাই ভাল। পাশাপাশি বড় ধরনের ঝড় না হওয়ায় গাছের ক্ষয়ক্ষতিও তুলনামূলক কম হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে কাঁচা আম ভাঙার কাজ। নদিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় জাত হিমসাগর আমের ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে এই নতুন ব্যবস্থা।
আরও পড়ুন East Bardhaman News: গভীর রাত পর্যন্ত চলে দর্শন-পুজো, বর্ধমানে মা যোগাদ্যার টানে ফের জনপ্লাবন ক্ষীরগ্রামে
আম চাষিদের কথায়, গাছে থাকা অবস্থায় অনেক সময় পোকামাকড়ের আক্রমণ, পাতার ঘষা কিংবা ডালের আঘাতে আমের গায়ে কালো দাগ পড়ে যায়। ফলে, ফলের স্বাদ ভাল হলেও বাইরের চেহারা খারাপ হওয়ায় বাজারে সঠিক দাম মেলে না। সেই সমস্যার সমাধান করতেই ব্যবহার করা হচ্ছে কাগজের জামা।
চাষিরা জানান, ব্যবসায়ীরাই মূলত এই কাগজের জামা সরবরাহ করছেন। গাছ থেকে আম পাড়ার প্রায় দশ দিন আগে প্রতিটি আমের গায়ে সেটি পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরাসরি রোদ, পোকামাকড় বা বাইরের আঘাত থেকে আম অনেকটাই সুরক্ষিত থাকছে। পাশাপাশি আমের স্বাভাবিক রং ও উজ্জ্বলতাও বজায় থাকছে।
আরও পড়ুন Poor to Crorepati Comedian Story: জীবনে উলটপুরাণ, মৃত্যুশয্যার এক মহিলার আশীর্বাদে রেস্তোরাঁয় বাসন ধোয়ার কাজ থেকে এখন কোটিপতি কমেডিয়ান সুদেশ
চাষিদের একাংশের বক্তব্য, মানুষ যেমন শরীর রক্ষা করতে জামা পরে, ঠিক তেমনই আমের গুণগত মান বজায় রাখতেই এই কাগজের জামা ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এ বছরই প্রথম এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। মাঝেমধ্যেই কাগজের জামা খুলে দেখে নেওয়া হচ্ছে আম ঠিকমতো বড় হচ্ছে কিনা। নতুন এই উদ্যোগে ভাল লাভের আশায় বুক বাঁধছেন নদিয়ার আম চাষিরা।