• শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে অশ্বগন্ধা, FSSAI-এর নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ কর্নাটক হাইকোর্টের
    এই সময় | ২০ মে ২০২৬
  • আয়ুর্বেদিক ভেষজ অশ্বগন্ধা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিল কর্নাটক হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অর্থাৎ FSSAI-এর জারি করা নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ আসতেই বড় স্বস্তি পেল আট সংস্থা। এই সংস্থাগুলিকে শর্তসাপেক্ষে অশ্বগন্ধার পাতা ও তার নির্যাস ব্যবহারের অনুমতি দিল কর্নাটক হাইকোর্ট। আপাতত নির্দিষ্ট কিছু সংস্থা তাদের সাপ্লিমেন্ট ও নিউট্রাসিউটিক্যাল পণ্যে অশ্বগন্ধার পাতা ও তার নির্যাস ব্যবহার করতে পারবে।

    মামলার সূত্রপাত, FSSAI ২০২৬ সালের এপ্রিলে সাপ্লিমেন্ট ও নিউট্রাসিউটিক্যাল পণ্যে অশ্বগন্ধা পাতা ব্যবহার নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে। তারা জানায়, অশ্বগন্ধার কাঁচা পাতা, নির্যাস বা অন্য কোনও রূপে ব্যবহার মোটেও অনুমোদিত নয়। আয়ুষ মন্ত্রক দাবি করে, অশ্বগন্ধার পাতায় ‘উইথাফেরিন-এ’ (Withaferin-A)-এর মাত্রা বেশি থাকে, যা লিভারের ক্ষতি, পাকস্থলীর সমস্যা এবং স্নায়বিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, আয়ুর্বেদে ঐতিহ্যগতভাবে অশ্বগন্ধার মূল বা শিকড়ের ব্যবহারই স্বীকৃত, পাতা নয়। সেই কারণেই শুধুমাত্র অশ্বগন্ধার মূল ও তার নির্যাস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

    ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল, আয়ুষ মন্ত্রক সমস্ত উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং বিক্রেতাদের অবিলম্বে অশ্বগন্ধা পাতা ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। পরের দিন, FSSAI নিজস্ব পরামর্শ জারি করে সেই নির্দেশকে আরও জোরদার করে।

    আটটি সংস্থা এই পদক্ষেপকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। তারা দাবি করে, অশ্বগন্ধা একটি আয়ুর্বেদিক ভেষজ যা সাধারণত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমানোর লক্ষ্যে খাবার বা সাপ্লিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    আয়ুষ মন্ত্রকের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় একাধিক সংস্থা। তাদের দাবি, FSSAI কেবল একটি ‘অ্যাডভাইজ়ারি’ জারি করে হঠাৎ করে বহু বছরের প্রচলিত উপাদান নিষিদ্ধ করতে পারে না। কারণ, ২০১৬ সালের Food Safety and Standards (Health Supplements and Nutraceuticals) Regulations অনুযায়ী অশ্বগন্ধা একটি অনুমোদিত উদ্ভিদ উপাদান। সংস্থাগুলির বক্তব্য, নিয়ম সংশোধন না করে শুধু পরামর্শমূলক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা চাপানো আইনসঙ্গত নয়।

    হাইকোর্টে আরও দাবি করা হয়, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরাপদভাবেই অশ্বগন্ধার পাতা ব্যবহার করা হচ্ছে। আচমকা নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় নিউট্রাসিউটিক্যাল শিল্পে বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বহু প্রস্তুতকারক সংস্থা, রপ্তানিকারক ও বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলেও আবেদনকারীরা আদালতে জানান। এর পরে কর্নাটক হাইকোর্ট FSSAI-এর নিষেধাজ্ঞার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে।

    বিচারপতি এস আর কৃষ্ণ কুমারের একক বেঞ্চ মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে জানায়, আপাতত FSSAI-এর ১৬ এপ্রিলের অ্যাডভাইজরির কার্যকারিতা শুধুমাত্র আবেদনকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে স্থগিত রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সংস্থাগুলি অশ্বগন্ধার পাতা বা তার নির্যাস ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে।

    তবে আদালত এখনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার ও FSSAI ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, আয়ুর্বেদ ও নিউট্রাসিউটিক্যাল শিল্পের একাংশের মতে, অশ্বগন্ধার পাতার ব্যবহার বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রচলিত এবং এর উপকারিতা নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা রয়েছে। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আইনি ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আগামী ৮ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি।

  • Link to this news (এই সময়)