• অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা-ছাড়া করতে চালু 'ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট' আইন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    eTV Bharat | ২০ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 20 মে: রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ দেশের সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে নবান্ন সভাঘরে বিএসএফ-এর কাছে জমি হস্তান্তরের জন্য আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন যে, আজ থেকেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে 'ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট' নীতি কার্যকর করা হচ্ছে ৷

    2025 সালের 14 মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারির পাঠানো এই আইন সংক্রান্ত নোটিশ বিগত তৃণমূল সরকার কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তবে, বিএসএফ-কে 27 কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি, কেন্দ্রের 'ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট' আইন চালু করার কথা ঘোষণা করলেন শুভেন্দু ৷ ফলে রাজ্য কোথাও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে, পুলিশ নিয়ম মেনে ধৃতকে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে ৷ তারপর বিএসএফ আইন অনুযায়ী, অনুুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠাবে ৷

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সিএএ-তে বলা আছে সাতটি সম্প্রদায় বা ধর্ম পালন করা লোকেরা - সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় আসবেন এবং সেই তালিকাভুক্ত যাঁরা 31/12/2024 পর্যন্ত ভারতে এসেছেন, তাঁদেরকে পুলিশ কোথাও হ্যারাসমেন্ট ও ডিটেন করতে পারবে না ৷"

    এর পাশাপাশি যাঁরা এই আইনের আওতাভুক্ত নন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, "সিএএ-এর আওতায় যাঁরা নেই, তাঁরা হলেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ৷ তাঁদেরকে সরাসরি রাজ্য পুলিশ আটক করবে এবং হ্যান্ডওভার করবে বিএসএফ-কে ৷ বিএসএফ, বিডিআর-এর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে ৷ অর্থাৎ, ডিটেক্ট, ডিলিট, এবারে ডিপোর্ট—এই আইন আজ থেকে কার্যকর হল ৷"

    এই আইন বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের পুলিশ ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ যেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত থানায়, এই আইন বুধবার থেকেই কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে ৷

    বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, "এ দেশে এবং রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে আইন-শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, দেশবিরোধী কার্যকলাপ, লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে মারাত্মক অসামাজিক কাজকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে, তার পেছনে একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ৷"

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে 2,200 কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত ৷ অন্যান্য রাজ্যে বিএসএফ-এর চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ জমি হস্তান্তর করা হয়েছে ৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে 1,600 কিলোমিটার অংশে ফেন্সিং বা কাঁটাতারের কাজ সম্পন্ন হলেও, বাকি প্রায় 600 কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল ৷

    শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন, "555 কিলোমিটার এমন সংবেদনশীল এলাকা ছিল, যেখানে পূর্বতন রাজ্য সরকার চাইলেই জমি দিতে পারত ৷ কিন্তু, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, ভোট ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে এবং তোষণের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ৷ এই অসহযোগিতার কারণে দেশের ও রাজ্যের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল ৷ এমনকি 2016 সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখেছিলেন ৷ পরবর্তীকালে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নবান্নর পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত থেকে জমি হস্তান্তরের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিগত সরকারের তরফ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি ৷" রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের দু’সপ্তাহের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন ৷
  • Link to this news (eTV Bharat)