‘ক্রিকেটপ্রেমী’ তৃণমূল নেতার মাঠ দেখে চক্ষু চড়কগাছ!
আজকাল | ২১ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাঠজুড়ে ছড়ানো দামী সবুজ ঘাস। রয়েছে সুইমিং পুল। ঝাঁ চকচকে জিম। একটি ভাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যে রকম সুযোগসুবিধা থাকতে পারে খেলোয়াড়দের সুবিধার্থে তা সবই রয়েছে বীরভূম সদাইপুর থানার অন্তর্গত গুমসুমা গ্রামে বিশালাকার এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটি স্টেডিয়াম বানিয়েছেন মহিম শেখ নামে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, তিনি একজন ‘ক্রিকেটপ্রেমী’। তাঁর এই উদ্যোগ ভাল হলেও এই উদ্যোগের পিছনে যে কোটি কোটি টাকা প্রয়োজন এই ধরনের স্টেডিয়ামকে বাস্তবায়িত করার জন্য, সেই টাকার উৎস কী? এই প্রশ্ন তুলছেন বীরভূম বিজেপি নেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিম শেখ একজন স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। একসময় মোটরসাইকেলের গ্যারেজে কাজ করতেন তিনি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধীরে ধীরে শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে মহিমের। একেবারে গড়ে তুলেছেন এই স্টেডিয়াম। যে স্টেডিয়ামে রয়েছে সুইমিংপুল থেকে শুরু করে ক্লাব হাউস, জিম, থাকার সমস্ত রকম ব্যবস্থা।
বীরভূম জেলায় কান পাতলেই শোনা যায়, এই মহিম শেখ তৃণমূলের আমলে একসময়ের প্রখ্যাত কয়লা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন। অনেকের দাবি, সেখান থেকেই বিপুল কালো টাকা উপার্জন করেছেন তিনি। এখন অবশ্য তিনি ব্যবসায়ী, মহিমের ঠিকাদারের কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন টোল ট্যাক্সের মালিকানা রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে। মহিম জানিয়েছেন, তাঁর ইটভাটা রয়েছে।
এই বিষয়ে মহিম বলেন, “ছোট থেকেই আমি ক্রিকেট খেলি, কিন্তু কোনও ভাল সুযোগ পাইনি। ১৯৯৬ সাল থেকে গ্রামে আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি। ২০০৯ সালে এটি মাঠের রূপ নেয়। ধীরে ধীরে নানা ক্লাব খেলতে আসে। ২০১৪ সালে এটি স্টেডিয়ামের আকার নেয়। সিএবি বা জেলার নানা দল এখানে খেলতে আসে। বাইরের দল খেলতে আসলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সুইমিং পুল, জিম খেলারই অঙ্গ। সিনিয়র খেলোয়াড়রা খেলতে আসলে এগুলি লাগবেই। নানা সময় নানা সংস্থা সাহায্য করেছে। সিএবি সাহায্য করেছে।”
রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূলের নেতা আমি কোনও দিন ছিলাম না। ২০১৫ সালে মানুষের দাবিতে জোর করে আমায় উপনির্বাচনে দাঁড় করানো হয়েছিল। রাজনীতি বুঝি না। সেজন্যই হয়তো আমায় তৃণমূলের লোক ভাবছে। আমি একজন খেলোয়াড়, একজন ক্রিকেটার। বাচ্চাদের সঙ্গে নিজেও খেলি। তাদের খেলা শেখাই। সিএবির নানা ধরনের খেলা হয় এখানে। নানা টুর্নামেন্ট থেকে টাকা পেয়ে থাকি। অনেক দল প্র্যাকটিস করে। পরিকাঠামো না দিলে তারা আসবে না। আরও কীভাবে উন্নতি করা যায় সেজন্য সিএবি টাকা দিয়েছে। আমাদের একটি ট্রাস্ট আছে এবং ক্লাবও আছে, তাদের মাধ্যমে কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “এত টাকা তো একেবারে খরচ হয়নি। ধাপে ধাপে যখন যা প্রয়োজন তখন করা হয়েছে। যে যা বলছে বলতে পারেন। আমরা যা করেছি মানুষের স্বার্থে। কোথাও একটুও দুর্নীতি নেই। বীরভূমের প্রতিটি মানুষ জানেন আমি একজন খেলাপ্রেমী। এরপরেও কেউ দাবি করলে সেটি তাঁর ভুল ধারণা। পুরো কাজ করেছি নিজে পরিশ্রম করে।”