ক্ষমতা হারিয়ে ঘর ভাঙছে তৃণমূলের? প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচিকে মাত্র ৩৫ বিধায়ক
আজ তক | ২১ মে ২০২৬
ছাব্বিশের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন রাজ্যের বিরোধী দল। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে দলের অন্দরে। তবে এই চেষ্টা যে খুব এক ফলপ্রসূ হচ্ছে না, তা হাতেনাতে প্রমাণ মিলছে। বুধবার বিধানসভা চত্বরের ভিতরে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রাক্তন শাসকদলের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রথম বড় বিক্ষোভ, এলেন না অনেকেই
TMC-র প্রথম বড় বিক্ষোভে বিধায়কদের কম উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার TMC বিধায়করা বিধানসভা চত্বরে বিআর আম্বেদকরের মূর্তির কাছে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং হকারদের বিরুদ্ধে চলা উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। কিন্তু দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৩৫ জন সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন। এই কম উপস্থিতি দলের মধ্যে সম্ভাব্য অসন্তোষ এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
TMC রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে
কলকাতার কালীঘাটে TMC নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক একদিন পরেই এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হল। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে বেশ কয়েকজন বিধায়ক স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, কেবল বদ্ধ ঘরে বসে কৌশল করলেই দলের হারানো জমি পুনরুদ্ধার হবে না। নেতারা পরামর্শ দিয়েছেন, তৃণমূলকে অবশ্যই আবারও রাস্তায় নামতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করে জনগণের কাছে পৌঁছতে হবে।
বরাবরই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে TMC
জানা গিয়েছে, দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর নেতৃত্বের মনোভাব নিয়ে বেশ কয়েকজন বিধায়ক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলটিকে আগের মতো ততটা আক্রমণাত্মক মনে হচ্ছে না। কিছু নেতা এ-ও বলছেন, TMC বরাবরই গণআন্দোলন এবং রাজপথের সংগ্রামের রাজনীতির জন্য পরিচিত, তাই দলটিকে অবশ্যই সেই ধারায় ফিরে আসতে হবে।
তৃণমূলের রাজনৈতিক ইতিহাস এই আন্দোলনমুখী ভাবমূর্তির সঙ্গ গভীর ভাবে জড়িত। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী রাজপথের সংগ্রাম পর্যন্ত। দলটি গণআন্দোলনের মাধ্যমেই তার রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছে। তাই ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম এই প্রতিবাদটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক বিধায়কের অনুপস্থিতি দলের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ভোট পরবর্তী হিংসা ও বুলডোজার ইস্যু
এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা। দলের অভিযোগ, নতুন সরকার
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী কর্মী সমর্থকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যা গরিবদের কর্মসংস্থানকে প্রাভাবিত করছে।
শোভনদেব বলেন, 'অনেক বিধায়ক নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কবলিত এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি। মাত্র একদিনের নোটিশে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিধায়কদের পক্ষে সময়মতো পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে।' কিন্তু রাজনৈতিক কারবারিরা মনে করছেন, ১৫ বছরের শাসকদলের কর্মসূচিতে এত কম উপস্থিতি তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।