আদালতে বেকসুর খালাস শামি, হাসিনের সেই মামলা ধোপে টিকল না
আজ তক | ২১ মে ২০২৬
চেক প্রতারণা মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামি। তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিন জাহান যে ১ লক্ষ টাকার চেক বাউন্সের মামলা করেছিলেন, সেই মামলায় আলিপুর আদালত শামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে আলিপুর মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলছিল এই মামলা। আজ অর্থাত্ বুধবার আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলায় শামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
২০১৮ সাল থেকে মামলাটি চলছিল
২০১৮ সালে হাসিন জাহান অভিযোগ করেছিলেন, সংসারের খরচ চালানোর জন্য শামি তাঁকে ১ লক্ষ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চেক ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পর তা বাউন্স করে। এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। শুধু এই মামলাই নয়, এর আগে শামি ও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন হাসিন। এদিন আদালতে হাজির ছিলেন শামি। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় পেসার বলেন, 'আমি জানতাম রায় আমাদের পক্ষেই যাবে। কারণ আমি কোনও ভুল করিনি। যা টাকা দেওয়ার কথা ছিল, সবটাই দিয়েছি।' তিনি আরও বলেন, 'মাঠের ভিতরে বা বাইরে যা-ই হোক না কেন, সবসময় পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করি।'
ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতার কারণেও বারবার খবরের শিরোনামে
বর্তমানে LSG-র হয়ে আইপিএল খেলছেন শামি। তবে সম্প্রতি ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতার কারণেও বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। ম্যাচ না খেলতে পারা নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন শামি। তাঁর কথায়, 'সব কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে চেষ্টা করে যাই।'
হাসিন জাহান এখনও কলকাতাতেই শামির বাড়িতে থাকেন
অন্যদিকে, হাসিন জাহান এখনও কলকাতাতেই শামির বাড়িতে থাকেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও মেয়ের পড়াশোনার কারণে তাঁকে দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। শামি অবশ্য ম্যাচ বা ক্রিকেটীয় ব্যস্ততা না থাকলে বেশিরভাগ সময় উত্তরপ্রদেশের আমরোহাতেই থাকেন। এই মামলার পাশাপাশি খোরপোশ সংক্রান্ত বিষয়েও দুই পক্ষের আইনি লড়াই এখনও চলছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বর্তমানে শামিকে প্রতি মাসে হাসিন জাহানের জন্য দেড় লক্ষ টাকা এবং মেয়ের দেখভালের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ মোট ৪ লক্ষ টাকা মাসিক খোরপোশ দেন ভারতীয় এই ক্রিকেটার।
তবে সেই টাকায় সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হাসিন জাহান। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত শামি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নোটিসও পাঠায়। যদিও শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, মা ও মেয়ের জন্য মাসে ৪ লক্ষ টাকা যথেষ্ট নয় কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে আদালতে।
সব মিলিয়ে, বহুদিনের আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এই রায় শামির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং খোরপোশ মামলা এখনও পুরোপুরি মেটেনি, তবু চেক প্রতারণা মামলায় আদালতের এই রায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি এনে দিল ভারতীয় পেসারের জীবনে।