উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের পর উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে মুখ খুললেন সাংসদ রাজু বিস্তা ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ মে ২০২৬
উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকের পর, সরকারি কাজের অগ্রগতির বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। উক্ত বৈঠকের পর সাংসদ রাজু বিস্তার সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি মূলত সরকারি প্রশাসনিক পরিকল্পনার দিকগুলোই তুলে ধরেন। এদিন শঙ্কর ঘোষ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হল প্রশাসনিক কাজের গতি ত্বরান্বিত করা এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিটি দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আরও উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনিক বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেগুলো সমাধানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি পরিকাঠামো উন্নয়নের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে কার্যকর করাই এখন প্রশাসনের প্রধান কাজ। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
শঙ্কর ঘোষ বলেন,’ বিগত সরকার প্রশাসনিক বৈঠকের নামে উত্তরকন্যায় নাট্য চর্চা করতো। এই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এরকম দশটি প্রাথমিক প্রশাসনিক বৈঠক করবে। প্রাথমিকভাবে এদিনের বৈঠকে রাজ্যের কোষাগার বাড়াতে কর আদায় বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। খরচ কমাতেও পদক্ষেপ করার কথা বলে হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বর্ষার আগে সমস্ত চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, উন্নয়ন কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। আমাদের প্রতিটি দপ্তরের মধ্যে যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন, সেই বিষয়ে আজ বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হল উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা।‘
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে, তা হল সরকারি প্রকল্পের সুফল যেন প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনও জায়গা সরকারে নেই। প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা ব্লক ও জেলা স্তরে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করছি। শিলিগুড়ি যেহেতু উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, তাই এখানকার পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের সরকার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেই কাজগুলোই এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।‘ উত্তরকন্যায় প্রায় আড়াই ঘন্টা প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার এই পাঁচ জেলার জেলাশাসক পুলিশ প্রশাসন এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে প্রায় সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা করেন তিনি। তবে বৈঠক শেষে সরাসরি বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গের পরিষেবাকে চাঙ্গা করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। এমনটাই মন্তব্য সাংসদ ও বিধায়কদের। তাঁদের কথায়, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে কোন রেয়াত করা হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ২০২৩ ও ২০২৫ সালের হড়পা বান ও ধসের কথা স্মরণ করিয়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও প্রকার অসুবিধা না হয় সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে পাহাড় ও ডুয়ার্সের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা হয় চা বাগানের একাধিক সমস্যা নিয়ে।
চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি থেকে তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের সূত্র কী ভাবে বের করা যায় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একাধিক দুর্নীতি নিয়েও এই প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। অবৈধ নদী খননের উপর বিশেষভাবে নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ে আরও কড়া হতে বলা হয়েছে পুলিশকে। এই প্রশাসনিক বৈঠকে উঠে এসেছে শিলিগুড়ি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের দুর্নীতির কথাও। সংসদ বা বিধায়ক এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত দেননি। তবে কর্পোরেশনের দুর্নীতি নিয়ে ফাইল খোলা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।