• দলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সরকার পরিচালনার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ মে ২০২৬
  • দলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সরকার পরিচালনার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে সড়কপথে মাল্লাগুড়িতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে স্বাগত জানায় সাংসদ মনোজ টিগগা, রাজ্য সম্পাদক বাপী গোস্বামী, জেলা বিজেপি সভাপতি অরুন মন্ডল সহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব।

    সেখানেই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশীর্বাদ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর দলীয় কর্মী সমর্থকদের বিজেপির জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। আগামীতে দলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের দেওয়া পরামর্শকে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রতিমাসে নিজের উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক সফরের পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজেও সমান সময় দেওয়ার কথাও জানান শুভেন্দু অধিকারি।

    দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন। এরপর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ের জন্য উপস্থিত সমস্ত দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানান তিনি। কর্মীদের উৎসাহিত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দলের নিচুতলার কর্মীদের লড়াইয়ের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তাই সরকার পরিচালনায় তাঁদের ভাবাবেগ ও পরামর্শকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    শিলিগুড়ির এই সাংগঠনিক বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এক বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এবার থেকে প্রতি মাসে তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে আসবেন। এই সফরগুলোতে কেবলমাত্র প্রশাসনিক পর্যালোচনা নয়, সমানভাবে সময় দেওয়া হবে দলীয় সংগঠনকেও। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমুখী কাজের গতি বাড়াতে প্রতি মাসে নিজে তদারকি করবেন।

    দলের জেলা নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে প্রশাসনের কাজে গতি আনা হবে, যাতে সরকারের রূপরেখা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সাধারণত সরকার গঠনের পর বহু ক্ষেত্রেই প্রশাসন ও সংগঠনের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে সক্রিয়।

    শুভেন্দু অধিকারি বলেন, ‘দলীয় কর্মী ও সংগঠনের পরামর্শই হবে সুশাসনের মূল চাবিকাঠি। প্রশাসনকে জনমুখী করতে দল ও সরকারকে এক সুতোয় বেঁধে কাজ করতে হবে।আমি সবসময় বিশ্বাস করি, দল ও সরকারকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের নেতৃত্ব এবং নিচুতলার কর্মীদের পরামর্শকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।’

    আমি কেবল প্রশাসনিক কাজের জন্যই উত্তরবঙ্গে আসব না। প্রতিটি মাসে আমার সফরের একটি বড় অংশ বরাদ্দ থাকবে দলীয় সংগঠনের জন্য। দলের কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সংগঠনের কাজে গতি আনাও আমার সমান দায়িত্ব।” আরও বলেন, ‘আজ আমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, তা সম্ভব হয়েছে আমাদের কর্মীদের অকুতোভয় লড়াইয়ের জন্য। তাই মনে রাখবেন, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁদের সেই লড়াইয়ের মূল্যায়ন করা হবে এবং তাঁদের আবেগ ও প্রস্তাবকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে। দলের প্রবীণ নেতারা আমাদের সংগঠনের ভিত্তি। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পথনির্দেশ আমাদের সরকার চালানোর ক্ষেত্রেও দিশারি হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসন আর দল এক সুতোয় গাঁথা থাকলেই রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। আমি কথা দিচ্ছি, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাকে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক—উভয় দিক থেকেই যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যাব। কোন কর্মী বা নেতৃত্ব যদি আমাকে কোন পরামর্শ বা প্রস্তাব দিতে চান তাহলে জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলকে নিজের নাম, পদ উল্লেখ করে পাঠাবেন। আমি সেটা পেয়ে যাবো আর সেভাবেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)