৩ ঘণ্টারও কমে বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হতেই সত্যি হচ্ছে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন!
প্রতিদিন | ২১ মে ২০২৬
রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। তৈরি হয়েছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। এরপরেই দেশের বুলেট ট্রেন মানচিত্রে জুড়তে চলেছে শিলিগুড়ির নাম। নিউ জলপাইগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেল। আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যে ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ প্রস্তুতের সময় সীমা নির্দিষ্ট করেছে রেল। ওই রিপোর্ট তৈরির পর রেল বোর্ডে তা পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। বোর্ডের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত মিললেই পুরোদমে লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে খবর।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হতে পারে প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ। হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন চালু হলে বিহারের পাটনা হয়ে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছতে লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। তিন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তর প্রদেশকে এক সুতোয় বাঁধবে এই উচ্চগতির ট্রেন। ‘ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ এই মেগা রেল প্রকল্পের জন্য বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করেছে। দলটি জুলাই মাস থেকে আকাশপথ এবং স্থলপথে সমীক্ষার কাজ শুরু করবে। এরপর করিডরের চূড়ান্ত রুট এবং প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি দিক ঠিক করা হবে। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ অর্থাৎ ডিপিআর তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে। সেটা হলে রেল বোর্ডে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলে গেলে শুরু হবে রেললাইন নির্মাণ কাজ।
ভারতে প্রথম বুলেট ট্রেন ছুটবে মুম্বই থেকে আমদাবাদ রুটে। ওই ট্রেনের অফিশিয়াল ডিজাইন অর্থাৎ ‘ফার্স্ট লুক’ ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে ভারতীয় রেল। ট্রেনটি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল করিডরে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জাপানের ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে ওই ট্রেন। ট্রেনের ডিজাইন থেকে শুরু করে সিগন্যালিং এবং সেফটি স্ট্যান্ডার্ড সব কিছুই নেওয়া হয়েছে জাপান থেকে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি রূপায়িত হচ্ছে মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতি মেনে। সেটাই এবার চালু হতে চলেছে নিউ জলপাইগুড়ি-বারাণসী করিডরে। আর তা হলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বড় বদল আসবে বলে মত।
এহেন উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন উত্তরের বণিকসভা এবং পর্যটন সংস্থাগুলি। কর্তারা মনে করছেন, শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেন চালু হলে উত্তরের বাণিজ্যিক মানচিত্রে অনেকটাই পাল্টাবে। বিশেষত জোয়ার আসবে পর্যটন শিল্পে। কারণ, বুলেট ট্রেনে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী থেকে শিলিগুড়িতে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে উত্তরের ডুয়ার্স ও পাহাড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। হেল্প ট্যুরিজমের কর্ণধার রাজ বসু বলেন, “বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন দিক খুলে যাবে।” অন্যদিকে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানান, শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বুলেট ট্রেনে চেপে মানুষ চোখের পলকে পৌঁছে যাবে বারাণসীতে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গ।