• দলের অন্দরে চড়ছে ‘বিদ্রোহে’র সুর, কুণাল-ঋতব্রত-সন্দীপনকে ডেকে পাঠালেন মমতা
    প্রতিদিন | ২১ মে ২০২৬
  • ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে চড়ছে ‘বিদ্রোহে’র সুর। পুনর্নির্বাচন থেকে ফলতার জাহাঙ্গির খানের পিঠটান নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ওঠে ঝড়। সরব হয়েছেন তিন জয়ী বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহারা। দলের দুঃসময়ে জাহাঙ্গিরের এহেন আচরণের পরেও কেন বহিষ্কার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এবার দলের বিদ্রোহ সামাল দিতে আসরে খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় তিন বিধায়ককে।

    জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনজনেই যান তাঁরা। দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথাবার্তাও হয়। বৈঠকের পর জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও পদক্ষেপ করবে দল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচন। তার আগে ভোটপ্রচারের শেষদিন ছিল মঙ্গলবার। ওইদিনই জাহাঙ্গির ঘোষণা করেন, “আমি এই ভোটে লড়ছি না।” তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। দলের কোনও সম্পর্ক নয়। সেকথা গতকালের কালীঘাটের বৈঠকে সকলকে মনে করিয়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তবে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সুর চড়ান বলেই খবর। সন্দীপন সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিবাদের সুর চড়ান। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তুলেছেন। জাহাঙ্গিরকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলে ঋতব্রত ও সন্দীপন খোঁচাও দেন। ঘরে বসে বৈঠক না করে মন খুলে কথা বলতে দিতে হবে বলেই জানিয়েছিলেন কুণাল ঘোষেরা। যদিও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছিলেন দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে তা লিখিত আকারে জানাতে হবে। তবে তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। তা মঙ্গলবারের বৈঠকে কুণাল, ঋতব্রত এবং সন্দীপনদের ‘বিদ্রোহে’ই স্পষ্ট। এবার সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই সম্ভবত বুধবার কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় কুণাল, ঋতব্রত ও সন্দীপনকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)