'রাখে হরি মারে কে'! বেলুড়ে ভরা জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিল যুবক, জীবন বাজি রেখে গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে প্রাণ বাঁচাল ২ বন্ধু
News18 বাংলা | ২১ মে ২০২৬
বেলুড়, রাকেশ মাইতি: কথায় বলে, ‘রাখে হরি মারে কে!’ এই প্রবাদই সত্যি হতে দেখা গেল হাওড়ার বেলুড় জগন্নাথ ঘাটে। ভরা জোয়ারের তীব্র স্রোতে যখন এক যুবকের প্রাণ ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হাজির হলেন দুই বন্ধু। নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে, উত্তাল গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই যুবককে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই গা শিউরে ওঠা সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল।
স্থানীয সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ২৫-৩০ বছর বয়সী এক যুবক বেলুড়ের জগন্নাথ ঘাটে গঙ্গাস্নান করতে নেমেছিলেন। ঠিক সেই সময়ই গঙ্গায় আচমকা বান আসে। মুহূর্তের মধ্যে জলের তীব্রতা ও স্রোত বহুগুণ বেড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, প্রথমটায় যুবকটি ঘাটের কোমর সমান জলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জোয়ারের ভয়ঙ্কর ঢেউ আছড়ে পড়তেই তিনি নিজেকে বাঁচাতে ঘাটের পিছল, কাদামাখা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু জলের টান এতটাই বেশি ছিল যে, সিঁড়ি আঁকড়ে ধরার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে যুবকটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় গঙ্গার জল। এই দৃশ্য দেখে ঘাটে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করেন।
যুবকটি যখন বানের তোড়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তখন নদীর পাড়েই উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার ভোটবাগানের বাসিন্দা সুরজ ও নিজামউদ্দিন। চোখের সামনে একজন মানুষকে এভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে তাঁরা স্থির থাকতে পারেননি। উপস্থিত বাকিরা যখন কেবল চিৎকার করছিলেন, তখন এই দুই বন্ধু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভরা গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে উদ্ধারকারী যুবক এমডি ফিরদৌস (সুরজ) জানান, “আমরা ভোটবাগান থেকে বেলুড়ে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম। খেলা শেষে গঙ্গাপাড়ে একটু হাওয়া খেতে বসি। তখনই দেখি জোয়ারের জলে এক যুবক ভেসে যাচ্ছেন। সবাই দাঁড়িয়ে দেখছিল, কিন্তু চোখের সামনে একটা প্রাণ চলে যাবে, এটা মেনে নিতে পারিনি। তাই আমি প্রথমে ঝাঁপ দিই, তারপর আমার বন্ধু নিজামউদ্দিনও ঝাঁপায়। দু’জনে মিলে আপ্রাণ চেষ্টা করে ওই ব্যক্তিকে জল থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই।”
নিজেদের জীবন বাজি রেখে যেভাবে সুরজ ও নিজামউদ্দিন ওই যুবককে উদ্ধার করলেন, তা দেখে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা এলাকা। নেটিজেনরাও প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন এই দুই বীর যুবককে। সঠিক সময়ে এই দুই ‘দেবদূত’ এগিয়ে না এলে, হয়ত এক লহমায় ঘটে যেতে পারত বড়সড় দুর্ঘটনা। আর এই ঘটনায় ওই যুবকের প্রাণ বাঁচিয়ে ওই দুই বন্ধু প্রমাণ করলেন, এখনও পৃথিবীতে বেঁচে আছে মানবতা।