এই সময়, ফলতা: পুনর্নির্বাচনের আগের দিনেই জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ফলতার হরিণডাঙা-২ পঞ্চায়েতের মনসারহাটের বাসিন্দারা। বুধবার বেলায় গ্রামের রাস্তার উপরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গির বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে এলাকাবাসীকে। অবিলম্বে জাহাঙ্গির-সহ দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় বিজেপি-সহ বিরোধী দলের সমর্থকদের উপরে নিয়মিত হামলা, বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হতো। এমনকী বহু বাড়ির বিদ্যুৎ ও জলের লাইন কেটে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। জাহাঙ্গিরের নির্দেশে স্থানীয় যুবকদের মারধর করা হতো বলেও দাবি করেন বাসিন্দারা।
মঙ্গলবারই পুনর্নির্বাচনের লড়াই ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়ানোর করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তার পর দিনই মনসারহাটে প্রকাশ্যে বিক্ষোভে সামিল হন নির্যাতিতদের একাংশ। স্থানীয় বাসিন্দা বিজলী ভাণ্ডারি বলেন, 'আমরা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জাহাঙ্গির বাহিনীর অত্যাচার আর সহ্য করা যাচ্ছিল না। আমার স্বামীকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। এখন আশার আলো দেখছি।' ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও সুব্রত ভাণ্ডারির অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ মতো কাজ না করায় তাঁকে মারধর করে পুকুরে ডুবিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ দিন তিনিও বিক্ষোভে অংশ নেন। সুব্রত বলেন, 'তৃণমূলের কথা মতো কাজ করিনি বলেই আমাকে মারধর করা হয়।'
ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, 'রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। মানুষ এখন ভয়মুক্ত। সব দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।