নয়াদিল্লি: উত্তর–পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে কৌশলগত ভাবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা মজবুত করার প্রক্রিয়ায় গতি আনছে কেন্দ্র।উত্তরবঙ্গে মালদার একাংশ, দুই দিনাজপুর, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির কিছু অংশ নিয়ে যে এলাকা ‘চিকেন্স নেক’ (আকারে অনেকটা মুরগির গলার মতো) হিসেবে বিখ্যাত, সেখানে একটি স্ট্র্যাটেজিক আর্মি বেস গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরে। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, খুব শিগগিরই দিল্লি সফরে আসতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সে সময়ে চিকেন্স নেক নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সবিস্তারে কথাবার্তা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
পহেলগাম হামলা পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর সময়েই ‘চিকেন্স নেক’ সুরক্ষিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল কেন্দ্র। নেপাল, ভুটান ছাড়া এই এলাকায় রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। ও পার বাংলার মাটি ব্যবহার করে ভারতে নাশকতার ছক পাকিস্তানের নতুন নয়। তার উপরে আবার হালফিলে ঢাকা–ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে।
সংঘর্ষ–পরিস্থিতি তৈরি হলে পাক সেনা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। আবার শিলিগুড়ি করিডরের পরেই শুরু হয়ে যায় উত্তর–পূর্ব ভারতের তথাকথিত ‘সেভেন সিস্টার্স’ (সাত রাজ্য)। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কোনও ভাবে চিন আগ্রাসী হয়ে উঠলে, তারা এই প্রান্তকেই টার্গেট করবে। ফলে সব দিক থেকেই ‘চিকেন্স নেক’ সুরক্ষিত রাখা যে প্রয়োজন, তা নিয়ে তর্কের কোনও অবকাশ নেই বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
দৈর্ঘে প্রায় ৬০ কিলোমিটার, প্রস্থে প্রায় ২২ কিলোমিটার শিলিগুড়ি করিডরের সঙ্গে নেপাল এবং ভুটানের সীমান্তও রয়েছে। নেপাল রুট ব্যবহার করে জঙ্গিদের ভারতে ঢোকার অভ্যেস পুরোনো। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাংলাদেশের মতো সেখানে সক্রিয় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই–ও। আবার ভুটানের ও পারে তিব্বত হলো চিনা সেনার মজবুত ঘাঁটি। তাই এই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলার কোনও অবকাশ নেই বলে মনে করে কেন্দ্র। সরকারি সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর সাফল্যের পরেই উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে ‘চিকেন্স নেক’ পরিদর্শন করেছিলেন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নিজে৷ সেই সময় থেকেই বিশেষ পরিকল্পনার সূত্রপাত বলে সূত্রের দাবি।
রাজ্যের বিগত সরকার জমি হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা চালাতে থাকায় ‘চিকেন্স নেক’ নিয়ে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে বাধা আসছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই সেই বাধা দূর করেছেন বাংলার নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবারই বিএসএফ–কে জমি দেওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় বাধা দূর করেছেন তিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ‘চিকেন্স নেক’ এলাকায় বিএসএফ–এর চেক পোস্ট তৈরিতে আর কোনও বাধা থাকল না।