এই সময়: রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আইনজীবী নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। এর মধ্যে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল পদে বিশিষ্ট আইনজীবী রাজদীপ মজুমদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি ২০২৪ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ রাজ্যে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেলের (ডিএসজি) দায়িত্বে ছিলেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেছেন। এর মধ্যে ২০২৪–এর অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ–খুনের মামলায় প্রথম থেকে তিনি কেন্দ্রের হয়ে আদালতে সওয়ালে অংশ নিয়েছেন।
২০২৪–এর নভেম্বরে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বীকৃতি পান রাজদীপ। তারও আগে আইনজীবী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী থেকে মুকুল রায়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে তাবড় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকের হয়ে প্রচুর মামলা করেছেন তিনি। রিট মামলা, সিভিল মামলা নিয়েই মূলত তাঁর চর্চা। তবে ফৌজদারি মামলায় দক্ষ আইনজীবী হিসেবে তাঁর বেশি পরিচিতি।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে রাজদীপ বলেন, 'আমি পেশাদার আইনজীবী। ডিএসজি হিসেবে যেমন কেন্দ্রের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছি, আগামী দিনে রাজ্য সরকারের হয়ে সে ভাবেই আইনি সওয়াল করব। পদ যাই হোক না কেন, আইন মেনে মক্কেলের জন্য লড়াই করাই আমার কাজ।' রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে আগামী দিনে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে সওয়াল করতেদেখা যাবে।
একইসঙ্গে এ দিন রাজ্যের গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) পদে নিয়োগ করা হয়েছে সিনিয়র আইনজীবী দ্বিবেন্দ্রনারায়ণ রায়কে। মূলত সাংবিধানিক আইন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস ল–এর মতো আইন নিয়ে তাঁর চর্চা। নীলাঞ্জন ভট্টাচার্যকে সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। সিভিল থেকে ক্রিমিন্যাল— যে কোনও বিষয়ে বহু বছর ধরে বঞ্চিত, নির্যাতিতদের হয়ে আইনি লড়াই করার জন্য পরিচিত নীলাঞ্জন। আপাতত তিনটি পদে নিয়োগ হলেও খুব দ্রুত আরও সব পদে আইনজীবী নিয়োগ করা হচ্ছে।