এই সময়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে মঙ্গলবারই ফলতার জোড়াফুল নেতা জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে বহিষ্কার করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। কালীঘাটে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের সেই বৈঠকে ঋতব্রত, সন্দীপন–সহ তিন বিধায়কের বাক্যবাণের মুখে পড়ে এই তিন জনের সঙ্গে অভিষেককে পৃথক বৈঠক করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা।
অভিষেকের সঙ্গে বুধবার বিকেলে বৈঠকের আগেই ঋতব্রত মঙ্গলবার পরিষদীয় দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে কথাগুলি বলেছিলেন, তার একাংশ এ দিন দুপুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে খোলাখুলি জানিয়ে দেন। এখানেই থামেননি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিউসি–র রাজ্য সভাপতি। বুধবার অভিষেক কালীঘাটে ঋতব্রত, সন্দীপন–সহ তিন জন বিধায়কের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন।
তৃণমূল সূত্রের খবর, এই বৈঠকে অভিষেককে ঋতব্রত সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূল জমানার দুর্নীতি, চুরি, অনিয়ম তিনি বিধানসভার ভিতরে কিংবা বাইরে ‘ডিফেন্ড’ করতে পারবেন না। বিধানসভায় শাসকপক্ষ যদি মমতার জমানার বিভিন্ন দুর্নীতি, তোলাবাজি নিয়ে সরব হয়, তা হলে তাঁর পক্ষে পাল্টা যুক্তি খাড়া করা সম্ভব নয়। ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে কিছু তৃণমূল নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রবল অসন্তোষ জানান ঋতব্রত।
সূত্রের দাবি, ঋতব্রতর সব কথা শুনে অভিষেক তাঁকে লিখিত ভাবে তাঁর বক্তব্য বিশদে জানাতে বলেছেন। তৃণমূল জমানার দুর্নীতি নিয়ে যে পাল্টা সাফাই দেওয়া কঠিন— এই ইঙ্গিত সন্দীপনও নেতৃত্বকে দিয়েছেন। এই বৈঠকের পরে মমতার বাসভবন থেকে বেরিয়ে তৃণমূলের এক মুখপাত্র তথা বিধায়ক বলেন, ‘আমরা মন খুলে কথা বলেছি। সংগঠন নিয়ে কথা বলেছি। আগামী িদনে আমরা আরও বিস্তারিত ভাবে নেতৃত্বকে এই বিষয়গুলি জানাব।’ এই বৈঠক নিয়ে তিন বিধায়কের একজন বলেছেন, ‘খোলাখুলি যে কথা বলার, তা বলে দেওয়া হয়েছে। দল যদি মনে করে, আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, তা নিতে পারে। তবে অভিষেক মনে দিয়ে সব কথা শুনেছেন।’
কালীঘাটে অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে এ দিন দুপুরে বিধানসভা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত ফের প্রশ্ন তুলেছেন, দলকে না–জানিয়ে ফলতার প্রার্থিপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করার জন্য কেন এখনও জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? তাঁর প্রশ্ন, ‘এখনও কি জাহাঙ্গিরকে রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে? ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য জাহাঙ্গিরকে শুধু নিন্দা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও কি এক ধরনের প্রিভিলেজ পাওয়া নয়? যিনি নিজেকে ‘পুষ্পা’ বললেন, তিনি নিজে ‘পুষ্প’ হয়ে ঝরে পড়ে গেলেন!’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা–সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জাহাঙ্গিরের এতদিনের চালচলন কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট পর্যায়ের মন্ত্রীর সমতুল ছিল বলেও ঋতব্রতর পর্যবেক্ষণ। আজ, বৃহস্পতিবার ফলতায় রিপোল হতে চলেছে। ঋতব্রতর প্রশ্ন, ‘পার্টি নেতৃত্ব কেন ফলতায় প্রচারে গেলেন না? এই প্রশ্ন তো উঠবে। ফলতায় জাহাঙ্গির তৃণমূলকে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটে (২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে) লিড দিয়েছিলেন! গণতন্ত্রে এটা কখনও স্বাস্থ্যকর হতে পারে না।’