দিগন্ত মান্না, কোলাঘাট
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় মা হনুমানের। সদ্যোজাত শাবককে উদ্ধার করে বাড়িতে আশ্রয় দেয় কোলাঘাটের নগুরিয়ার একটি পরিবার। সব ঠিকই চলছিল। দিন দশেক পরে, বুধবার শুরু হয় বিপত্তি। শাবককে ফিরিয়ে নিতে বাড়ি ঘেরাও করে একদল হনুমান। দিনভর বাড়িতে সিঁটিয়ে ছিলেন ওই পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে এক পশুপ্রেমী শাবকটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। কিন্তু পথে হনুমানের দল তাঁকে আক্রমণ করে শাবককে ছিনিয়ে নেয়। পশুপ্রেমী প্রলয় ঘোষও নাছোড়বান্দা। তিনি সেই শাবককে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে রেখেছেন। আপাতত শাবকটি বিপন্মুক্ত।
প্রথমে শাবকটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন নগুরিয়ার মিঠুন ভৌমিক। পরে পড়শি জগন্নাথ মাইতিকে শাবকটি দিয়ে দেন। জগন্নাথ ও তাঁর পরিবারের লোকজন যত্ন করতে শুরু করেন। ভেবেছিলেন, একটু বড় হলে তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দেবেন। এ দিন সকালে মাইতির বাড়ি ঘিরে ফেলে হনুমানের দল। খবর পেয়ে পশুপ্রেমী প্রলয় এসে শাবকটিকে নিয়ে যান। কিন্তু ছাতিন্দা এলাকায় প্রলয়ের পথ আটকায় হনুমানের দল। শাবকটিকে নিয়ে চলে যায় জঙ্গলে।
এলাকায় দক্ষ অ্যানিম্যাল ক্যাচার বলে পরিচিত প্রলয় বলছেন, 'ওদের হাত থেকে শাবকটি রক্ষা করা ছিল চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত তা করতে পেরে ভালো লাগছে।' একটি শাবকের জন্য কেন উতলা হনুমানের দল? অনির্বাণ মিত্র নামে এক বনাধিকারিক বলছেন, 'পুরুষ হনুমান শাবককে নিজের বাবা-মা ছাড়া দলের অন্য কোনও পুরুষ হনুমান মেনে নেয় না। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ শাবককে জন্মের পরেই মেরে ফেলে দলের অন্য পুরুষ হনুমান। এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই কোনও হনুমান পুরুষ শাবকের জন্ম দিলে সে শাবককে নিয়ে নির্জনে চলে যায়।'
এ দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হনুমান দলের আক্রমণের আতঙ্কে ঘরবন্দি ছিলেন জগন্নাথ মাইতি ও তাঁর পরিবারের লোকজন। জগন্নাথ বলেন, 'মা হারা শাবকটিকে একটু বড় করে জঙ্গলে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। খাঁচার মধ্যে ফলমূল খেয়ে বেশ বড় হচ্ছিল শাবকটি। তার মধ্যেই এই বিপদ!'
গত বছর মে-তে পাঁশকুড়ার মাইশোরায় বোমার ভয়ে একটি মা হনুমান গাছের মগডালে উঠে প্রসব করে। গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় হনুমান শাবকের। রহিমা বিবি নামে এক মহিলা জখম মা হনুমানটিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। বন দপ্তর সেটিকে উদ্ধার করলেও চূড়ান্ত গাফিলতির কারণে বন দপ্তরের হেফাজতেই মৃত্যু হয় মা হনুমানটির। সেই ঘটনার এক বছর পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা হনুমানের মৃত্যু হয়। তবে এই শাবকটিকে সুস্থ রাখতে পেরে খুশি সকলেই।