• কড়া অ্যাকশন বিজেপির ৪ নেতার বিরুদ্ধে, শমীক-বার্তার পরে কঠোর পদক্ষেপ
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • এই সময়: নিছক হুঁশিয়ারি নয়, শুরু হলো অ্যাকশনও। প্রশাসনিক স্তরের মতো বিজেপির সাংগঠনিক স্তরেও।

    শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরে জেলায় জেলায় পুলিশ ‘অ্যাকশন’ শুরু করে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। কাটমানি–তোলাবাজি বন্ধেও শুরু হয়েছে অভিযান। আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে ‘অ্যাকশন’ শুরু হলো দলের শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের শায়েস্তা করতে!

    গত ৪ মে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই শমীক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বিজেপির তৃণমূলীকরণ তিনি কিছুতেই হতে দেবেন না। সেটা রুখতে প্রয়োজনে নিজেই পথে নামার ঘোষণা করেছিলেন শমীক। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিনই অতি উৎসাহী পদ্ম নেতা–কর্মীদের সতর্ক করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, ‘মাথায় গেরুয়া তিলক কেটে আর পার্টির ঝান্ডা হাতে নিয়ে কেউ মাতব্বরি করলে তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’

    এ সব যে নিছক ফাঁকা আওয়াজ ছিল না, দলের চার নেতাকে শো–কজ় চিঠি ধরিয়ে সেটাই স্পষ্ট করলেন শমীক। গত ১২ মে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের পাথরডি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে (বিএমওএইচ) হেনস্থার অভিযোগ ওঠে চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরুলিয়ার জেলা রাজনীতি। এই ঘটনা নজরে আসতেই শমীকের নির্দেশে বঙ্গ–বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় শো–কজ়ের চিঠি পাঠিয়েছেন অভিযুক্তদের।

    দলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘রাজ্য সভাপতি সবাইকে সংযত থাকতে বলার পরেও বাঘমুন্ডি ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থা করা হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য আমাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের এই মাতব্বরদের রেওয়াত করা হবে না কিছুতেই।’ ১৮ মে ওই ঘট‍নায় জড়িত চার নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছেন রাজ্য বিজে‍পি নেতৃত্ব। শো–কজ় চিঠিতে স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

    শো–কজ়ের চিঠি পেয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা বাঘমুন্ডি ব্লকের বিজেপির আহ্বায়ক রাকেশ মাহাতো। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন বাঘমুন্ডি ব্লকের সহ-আহ্বায়ক বিজয়মোহন সিংহ, দলের মণ্ডল ৪-এর সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং যুব মোর্চার সভাপতি মিঠুন কুমার। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য আধিকারিককে ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় হুমকি, শারীরিক হেনস্থা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো দলবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠেছে আপনার বিরুদ্ধে। বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে দলবিরোধী কাজের জন্য আপাতত আপনি দলের কাজ করতে পারবেন না। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই দলবিরোধী কাজের কারণ চিঠি লিখে আপনাকে জানাতে হবে।’

    শমীক অবশ্য ‘অ্যাকশন’–এর বার্তা দিয়েই চলেছেন। এ দিন নদিয়ার কল্যাণী থেকেও তিনি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বেশ কিছু জেলায় বিজেপির একাংশ জোর করে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলি দখল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। তাঁদের সতর্ক করে শমীক বলেন, ‘কো‍নও বিধায়কও যদি পঞ্চায়েত দখল করতে যান, তাঁর উপরেও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের খাঁড়া নেমে আসবে।’

    তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপির নামে যাঁরা এ সব করছেন, তাঁরা কেউ বিজেপির নন। ওঁরা চার ঘণ্টার বিজেপি। কোনও নির্বাচিত সংস্থাকে ফেলে দেওয়াকে বিজেপি নীতিগত ভাবে সমর্থন করে না। আমরা জবরদখলের পথে হাঁটব না। ওটা বিজেপির পথ নয়। অতি উৎসাহী কয়েকজন মাঠে নেমে পড়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।’ শমীকের সংযোজন, ‘আমরা এ সব করলে ২০২১–এর আগেই তৃণমূল সরকার পড়ে যেত। বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’

    বিজেপি সূূত্রে খবর, গত ১০–১২ দিনে তৃণমূলের একাধিক বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর তালে তাল মিলিয়ে কিছু পুরোনো বিজেপি কর্মীও ভাঙচুরে সামিল হয়েছিলেন। তাঁদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে।

  • Link to this news (এই সময়)