• বিধানসভায় কমছে তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতির হার, ‘সন্ত্রাস’, উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে বিরোধী দল
    এই সময় | ২১ মে ২০২৬
  • এই সময়: মঙ্গলবার দেখা গিয়েছিল মোট ৬৫ জন বিধায়ককে। বুধবার দেখা গেল তাঁদের মধ্যে ৩১ জনকে। আজ, বৃহস্পতিবার পথে নেমে ভোট পরবর্তী ‘সন্ত্রাস’, হকার উচ্ছেদ, বুলডোজ়ার দিয়ে বাড়ি ভাঙার প্রতিবাদ জানানোর কথা তৃণমূলের। সেখানেও থাকার কথা দলীয় বিধায়কদের।

    মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জে আজ এই প্রতিবাদ কর্মসূচি হওয়ার কথা। তার আগে বুধবার পরিষদীয় দলকে বিধানসভার ভিতরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আম্বেদকর মূর্তির সামনে এ দিন জোড়াফুলের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এক ফ্রেমে ৩১ জনকে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। আর ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৬৫ জন।

    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল অল্প সময়ের জন্য কক্ষত্যাগ করেছিল। মমতার নির্দেশে বুধবার ছিল প্রথম নির্দিষ্ট ইস্যু–ভিত্তিক প্রতিবাদ কর্মসূচি। সেখানে ৫০ শতাংশেরও কম বিধায়কের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র, পুলক রায়, গোলাম রব্বানি–র মতো বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে আধ ঘণ্টা স্লোগান দিয়ে তৃণমূলের এই অবস্থানে ইতি টেনে দেওয়া হয়। শোভনদেব বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মীকে মেরে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। বিনা কারণে কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা তাই অবস্থানে বসেছি।’

    কিন্তু জোড়াফুলের অর্ধেক বিধায়ক কেন গরহাজির? তৃণমূলের মুখপাত্র তথা দলের এক বিধায়কের বক্তব্য, ‘তৃণমূল নেতৃত্ব টিম ভাগ করে দিয়েছেন। এক দল বিধায়ক এখানে অবস্থান করেছেন। অন্য দলকে এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে, নিজেদের কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাঁদের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।’ বিজেপির বিধায়ক অর্জুন সিং–র কটাক্ষ, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যদি দরজা খুলে দেন, তা হলে তৃণমূলের এক জন বিধায়কও থাকবে না।’

    গত মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মত ভাবে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। শোভনদেবই যে বিরোধী দলনেতা হবেন এবং ফিরহাদ হাকিম বিরোধী সচেতক, তা এর আগে বিধানসভায় চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, অভিষেকের এই চিঠি বিধানসভার সচিবালয় মান্যতা দেয়নি। ফলে শোভনদেবকেও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। বিরোধী দলনেতার কক্ষও তৃণমূলকে বরাদ্দ করা হয়নি।

    কালীঘাটে পরিষদীয় দলের বৈঠক হওয়ার পরে তৃণমূল কি আবার বিধানসভায় চিঠি দেবে? শোভনদেব বলেছেন, ‘আমরা ফের চিঠি দিতেও পারি। এই বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে।’ তৃণমূলের এক বিধায়কের দাবি, ‘পরিষদীয় দলের বৈঠকের রেজ়োলিউশন–সহ দলের তরফে নতুন চিঠি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

    ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কী প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতার নাম ঘোষিত হয়েছে, তা জানতে চেয়ে শোভনদেব আরটিআই করেছিলেন। বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস বুধবার জানিয়েছেন, এই আরটিআই–র উত্তর দিয়ে দেওয়া হবে। অভিষেক প্রথম যে চিঠি দিয়েছিলেন তার ভিত্তিতে কেন বিরোধী দলনেতার নাম বিধানসভার তরফে ঘোষণা করা যায় না তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সৌমেন্দ্র।

  • Link to this news (এই সময়)